মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করছে। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, এটি ডাকাতি নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদা দাবি নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি নিজ বাড়িতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দিতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুই দিন ধরে যোগাযোগ না হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তারা বাড়িতে গিয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। বাড়ির ভেতরও ছিল অন্ধকার। এরপর বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেখতে পান তারা।
অন্যদিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদার টাকা দাবি নিয়ে একটি বিরোধ হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বাড়ির নিচতলায় নির্মাণকাজ চলছিল। ওপরের তলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সেখানেই পরিবারটি বসবাস করছিল। চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়ির সামনে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষের ভিড় দেখা যায়।
পাশের বাড়ির বাসিন্দা সোনালী দাস বলেন, পরিবারটি সবার সঙ্গে ভালোভাবে মিশত। তাদের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা তিনি জানেন না। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা করেন।
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদের জানান, চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আটকদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রংপুর জেলা স্কুলসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে পুলিশ, সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।


















