শনিবার , ২৪ মে ২০২৫ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. রাজনীতি
  2. ভিডিও

ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার না করতে পারলে পদত্যাগ করবেন ড. ইউনূস

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ২৪, ২০২৫ ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংবিধান অনুযায়ী যদি তিনি তার ক্ষমতা পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করতে না পারেন, তবে তিনি পদত্যাগ করবেন। এ বিষয়ে আজ একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) সভা শেষে উপদেষ্টাদের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে তিনি দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

জানা গেছে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উত্তপ্ত রাজপথের কর্মকাণ্ডসহ বেশ কিছু কারণে গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের বিষয়টি উত্থাপন করেন। যদিও উপদেষ্টারা তাকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ করেন, তবে কিছু যুক্তি উপস্থাপন করে তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এমনকি এ বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল এবং স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ শুরু হয়। তবে, শেষ পর্যন্ত ২-৩ জন উপদেষ্টার বিশেষ অনুরোধে তিনি সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। ওই বৈঠকের দুই দিন পর আজ আবারও বৈঠক হতে যাচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং দু-একটি রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক আচরণে প্রধান উপদেষ্টা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এ ব্যাপারে ড. ইউনূসের ভাষ্য হলো—সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ পড়িয়েছেন। এই শপথের বলে প্রধানমন্ত্রী যেসব কাজ করতে পারেন, প্রধান উপদেষ্টাও একই কাজ করতে পারেন। সংবিধানে তাকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যেখানে কোনো বিকল্প বা আইনগত বাধা নেই, এবং তার ম্যান্ডেট নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। তবে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কিছু কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী বলে দাবি করা হচ্ছে।

এছাড়াও, ড. ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদকে ইঙ্গিত করে দু-একটি রাজনৈতিক দলের প্রকাশ্য বক্তৃতা-বিবৃতি আপত্তিকর ও অসম্মানজনক বলে মনে করেন তিনি। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ড. ইউনূস মনে করেন, ‘কোন কাজ করব কিংবা করব না—সে ব্যাপারে আলোচনা, পরামর্শ কিংবা মতামত দেওয়ার মতো বিষয় থাকতে পারে। কিন্তু অধীনস্থ কেউ প্রধান উপদেষ্টাকে নির্দেশনা দিতে পারেন না।’ এই বিষয়গুলোই তাকে বিশেষভাবে বিব্রত করেছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান প্রেক্ষাপট অবশ্যই সামনে আনা হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে। আজ একনেকের নির্ধারিত বৈঠক শেষে উপদেষ্টাদের সঙ্গে এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বৈঠকের সার্বিক ফলাফলের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি উপদেষ্টা পরিষদের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়, তাহলে তিনি স্বপদে থাকবেন। অন্যথায়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তিনি তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিদায় নেবেন।

যদি সবাই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একমত হন বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে তিনি থাকবেন এবং ঐকমত্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে দেবেন।

এদিকে, সম্প্রতি বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিল। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শুক্রবার যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে ৬ দিনেও সাড়া মেলেনি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্রটি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সর্বশেষ - জাতীয়