পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে শিগগিরই আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, “যে দেশে সস্তায় পেঁয়াজ পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই আমদানি করা হবে।”
বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার প্রায়ই মৌসুমি ঘাটতি, সংরক্ষণ সমস্যা এবং সরবরাহে বিঘ্নের কারণে অস্থির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দেশীয় উৎপাদন কমে গেলে বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার অতীতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ভারত প্রায়ই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রফতানি সীমিত করায় বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হয়েছে—যেমন চীন, মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে আমদানি।
এবারও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার দ্রুত আমদানি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি নীতি নমনীয় করলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং খুচরা দামে প্রভাব পড়বে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, যদি বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকে, তাহলে দেশীয় বাজারে দাম পুরোপুরি স্থিতিশীল নাও হতে পারে।
অন্যদিকে, পাটপণ্য রফতানিতে ভারতের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এ পদক্ষেপে রফতানি লক্ষ্যমাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।” ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, “সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলেও, এখনও সাড়া মেলেনি।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পেঁয়াজের মতো পণ্য আমদানিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও সংরক্ষণ অবকাঠামো শক্তিশালী করাই হবে টেকসই সমাধান।



















