মঙ্গলবার , ৭ অক্টোবর ২০২৫ | ২৪শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও

চিন্তার স্খলন রোধে বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চা ও সহনশীলতার আহ্বান

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৭, ২০২৫ ২:১১ পূর্বাহ্ণ

মানুষের চিন্তার সঠিকতা তার জীবন, সমাজ ও ধর্মীয় অবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সুস্থ চিন্তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করলেও চিন্তার স্খলন ব্যক্তি ও সমাজ উভয়কেই বিপথগামী করে তোলে। বিশেষত ধর্মীয় জীবনে চিন্তার বিকৃতি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।

প্রাজ্ঞ আলেমদের মতে, চিন্তার স্খলন হলো এমন ভাবনা বা বিশ্বাস, যা ঐশী জ্ঞান ও মানব প্রকৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং যার ফলাফল নেতিবাচক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্য আমি তাদের অভিশাপ করেছি এবং তাদের হৃদয় কঠিন করেছি…।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১৩)

ধর্মচিন্তায় স্খলন সবচেয়ে গুরুতর। মহানবী (সা.) সতর্ক করেছেন, “তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি পরিহার করো; কারণ পূর্ববর্তী জাতিগুলো এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে।” (সুনানে নাসায়ী, হাদিস : ৩০৫৭)

ইতিহাসে দেখা যায়, চিন্তার বিকৃতি রাজত্ব ধ্বংসেরও কারণ হয়েছে। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, উমাইয়াদের পতনের অন্যতম কারণ ছিল শেষ খলিফা মারওয়ান বিন মুহাম্মদের চিন্তার স্খলন, যা তার শিক্ষক জাআদ বিন দিরহামের প্রভাবে ঘটেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, চিন্তার স্খলনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা, শাসকদের ভুল নীতি, ধর্মীয় জ্ঞানের অপূর্ণতা এবং অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জ্ঞানগ্রহণ। এসব কারণে মানুষ সঠিক পথ হারায় ও বিভ্রান্ত চিন্তার শিকার হয়।

ধর্মচিন্তায় স্খলন রোধে করণীয় হিসেবে আলেমরা উল্লেখ করেছেন কয়েকটি বিষয়—
১️⃣ বিশুদ্ধ জ্ঞানের চর্চা: কোরআন-হাদিসের ভিত্তিতে সঠিক জ্ঞান অনুশীলনই স্খলন রোধের মূল উপায়।
২️⃣ ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা: মতপার্থক্যকে সহনশীলভাবে গ্রহণ করলে প্রান্তিকতা ও বিভাজন কমে।
৩️⃣ প্রান্তিকতা পরিহার: ধর্মীয় বাড়াবাড়ি সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, যা এড়ানো জরুরি।
৪️⃣ উত্তম প্রতিরোধ: ভ্রান্ত মতবাদের মোকাবেলায় বুদ্ধিবৃত্তিক ও আইনসম্মত প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন।

আল্লাহ বলেন, “ভালো ও মন্দ সমান নয়। মন্দকে প্রতিহত করো উত্তম দ্বারা; ফলে তোমার শত্রুও অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে যাবে।” (সুরা : হা-মিম-সাজদা, আয়াত : ৩৪)

সর্বশেষ - জাতীয়