সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আলোচনায় আসা মডেল সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাসকে এবার জুলাই হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ অগাস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এই আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩ আগস্ট মিষ্টি সুবাসকে জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলম সোহাগ। আদালত ওই দিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য নির্ধারণ রাখেন।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামিদের সহযোগী হিসেবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন। মিষ্টি সুবাস বর্তমানে আশুলিয়া থানার অপর একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
আরও বলা হয়, তদন্তে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে এ মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা আড়ার দিকে বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনের পক্ষে মিছিল করার জন্য আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল মোড় এলাকায় অংশ নেন ভুক্তভোগী রুহুল আমীন। এ সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে বাদীর বাঁ পায়ের গোড়ালিতে লেগে গুরুতর আহত হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে গত ৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী রুহুল আমীন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলাটি করেন। মামলায় ৫৩ জনকে এজহারভুক্ত আসামি করা হয়।
চলতি বছরের ২৬ মার্চ দুপুর ১টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর জাতীয় স্মৃতি সৌধের মূল বেদির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২২ বা ২৫ জন নেতাকর্মী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না মানব না’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দেন।
এ সময় মিষ্টি সুবাসসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জামিনে কারামুক্ত হন।


















