টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে আসায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে নদীর পানি ৮ দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে, যা বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩০ সেনিমিটারের চেয়ে প্রায় ৩ মিটার নিচে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি প্রায় ৫ মিটার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে।
পানি বৃদ্ধির কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) থেকে কুমিল্লা অঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই বৃষ্টির পানি গোমতী নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, যদি বৃষ্টিপাত বন্ধ হয় এবং উজানের ঢল কমে আসে, তবে বন্যার শঙ্কা অনেকটাই দূর হতে পারে। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
কুমিল্লা আবহাওয়া কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১২৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার মাঝারি বৃষ্টি হলেও বুধবার থেকে তা ভারী বর্ষণে রূপ নিয়েছে। আগামী দুই-এক দিনও একই রকম বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আমিরুল কায়ছার জানিয়েছেন, যদিও গোমতী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তবুও জেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার এবং জিআর চাল মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
গোমতী নদীর আশপাশের বাসিন্দারা ২০১৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি মনে করে আতঙ্কে রয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় পানির স্রোত কিছুটা কমেছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হবে।


















