যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে অনাগ্রহী কোম্পানিগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, “যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেমন অ্যাপল, তাদের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। তবে যারা প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ করা হবে।”
এই ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চিপ উৎপাদনে অনাগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলোকে কঠিন বাণিজ্যচাপে পড়তে হতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক শুল্ক ঘোষণা এখনও হয়নি, তবে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) থেকেই যুক্তরাষ্ট্র নতুনভাবে ১০–৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে বেশ কিছু উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের ওপর।
বিশ্বজুড়ে চিপ সরবরাহকারীদের মধ্যে এতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ, এসব পণ্যের শুল্ক বর্তমানে ‘জাতীয় নিরাপত্তা তদন্ত’-এর আওতায় রয়েছে। এই তদন্তের ফল প্রকাশ হবে আগস্টের মাঝামাঝি।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। কারণ, স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা গড়েছে, তাই তারা শুল্ক ছাড়ের সুযোগ পাবে। তাইওয়ানের টিএসএমসি ও এনভিডিয়া যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও তারা সুবিধাভোগী থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন উদ্বেগ জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী তেংকু জাফরুল বলেছেন, “এই শুল্ক মালয়েশিয়ার রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে ঝুঁকিতে ফেলবে।” ফিলিপাইনের সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ড্যান লাচিকা বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য ধ্বংসাত্মক।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব কোম্পানির অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেশি, তারাই এই নতুন শুল্ক পরিস্থিতিতে টিকে থাকবে। মার্কিন অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান জ্যাকবসেন বলেন, “এটি মূলত বড় কোম্পানির জন্য সুবিধাজনক পদক্ষেপ—যারা যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপন করতে পারে।”
বর্তমানে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ মাত্র ১২ শতাংশ, যেখানে ১৯৯০ সালে তা ছিল ৪০ শতাংশ। সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারেই ট্রাম্প প্রশাসন ২০২২ সালে ৫২.৭ বিলিয়ন ডলারের চিপ উৎপাদন সহায়তা প্রকল্প চালু করে।
বিশ্ববাজারে ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে দেখা গেছে। তাইওয়ানের টিএসএমসি’র শেয়ার ৪.৪ শতাংশ এবং স্যামসাংয়ের শেয়ার ২ শতাংশ বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্ল্যান্ট থাকা গ্লোবালওয়েফারস-এর শেয়ার বেড়েছে ১০ শতাংশ পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের চিপ নির্মাতা হুয়াওয়ে ও এসএমআইসি—যাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা-সম্পর্কিত অভিযোগ রয়েছে—তারা এই শুল্ক ছাড় পাবে না।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান



















