ছয় দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কারিগরি শিক্ষা আন্দোলনে যুক্ত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের কর্মী রিফাত হোসেন।
রিফাত জানান, “আমাদের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। আন্দোলন চলবে কি না, সেটাও বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”
এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন, যার ফলে সারা দেশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। রাতে সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হলেও, মধ্যরাতে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি মাসফিক ইসলাম বলেন, “বৈঠকে ছয় দফাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আগামী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। বৈঠক চলাকালে সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।”
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি:
অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতি বাতিল:
ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০% প্রমোশন কোটা বাতিল।
হাইকোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত পদোন্নতিগুলো কার্যকরভাবে বাতিল।
২০২১ সালের বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল ও নিয়োগবিধি সংশোধন।
ডিপ্লোমা কোর্সে গুণগত মান নিশ্চিত:
বয়স নির্বিশেষে ভর্তির সুযোগ বাতিল।
উন্নত বিশ্বের আদলে চার বছর মেয়াদি মানসম্পন্ন কারিকুলাম চালু।
একাডেমিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তর।
পেশাগত সম্মান ও ন্যায্যতা:
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত পদে অন্য কাউকে নিয়োগে আইনি ব্যবস্থা।
কারিগরি নেতৃত্বে দক্ষ জনবল:
কারিগরি শিক্ষাবহির্ভূত জনবল নিয়োগ নিষিদ্ধ।
সব শূন্য পদে দক্ষ শিক্ষক ও ল্যাব সহকারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কার কমিশন:
‘কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা’ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।
‘কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়:
উন্নত মানের একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
নির্মাণাধীন চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পলিটেকনিক পাস শিক্ষার্থীদের শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা।
আলোচনার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত হবে—আন্দোলন চলবে, না কি প্রত্যাহার করা হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল এখন তাকিয়ে আছে সচিবালয়ের আজকের সংবাদ সম্মেলনের দিকে।



















