বৃহস্পতিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | ৫ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ভিডিও

বিশ্বে সবচেয়ে সুখী দেশের শীর্ষে আবারও ফিনল্যান্ড, কিন্তু কেন?

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ২৪, ২০২৫ ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ বা বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় টানা অষ্টমবারের মতো শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিয়েছে ফিনল্যান্ড। সুখের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে আছে দেশটির বিশেষ জীবনদর্শন, ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ফিনিশ নাগরিকরা ‘সুখ’ শব্দটিকে বরং ‘তৃপ্তি’, ‘পরিপূর্ণতা’ বা ‘জীবনযাপনে সন্তুষ্টি’ দিয়ে ব্যাখ্যা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবও স্বীকার করেছেন, সবসময় সুখী থাকা সম্ভব নয়, তবে মৌলিক অধিকার যেমন স্বাধীনতা, সমতা ও নিরাপত্তা মানুষকে একটি শান্তিপূর্ণ শুরু দিতে পারে।

সুখের সূত্র: প্রকৃতি, সওনা ও ভারসাম্য

সুখের দেশ হিসেবে ফিনল্যান্ডের পরিচিতিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাচ্ছেন দেশটির পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তবে ফিনল্যান্ডে এসে যেন কেবল হাসিমুখ আর আনন্দমুখর পরিবেশ দেখার আশা না রাখেন পর্যটকরা—বলে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যটনের মূল আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সওনা সংস্কৃতি, জীবনধারায় ভারসাম্য এবং নাগরিকদের মৃদু, পরিতৃপ্ত জীবনের অভিজ্ঞতাকে।

‘ভিসিট ফিনল্যান্ড’-এর আন্তর্জাতিক অপারেশন ডিরেক্টর টিমু আহোলা জানান, ফিনল্যান্ডের সুখকে তারা পাঁচটি উপাদানের সংমিশ্রণ হিসেবে দেখেন, যার মধ্যে সওনা সংস্কৃতি অন্যতম। এই দেশের সবচেয়ে বড় ‘ঝুঁকি’—বল্গা হরিণের সঙ্গে রাস্তা ভাগাভাগি করা।

খাবার, সংস্কৃতি ও নাগরিক সুবিধা

‘সাইমা লেকল্যান্ড’ অঞ্চলকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ গ্যাস্ট্রোনমি অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালে। মিশেলিন তারকা প্রাপ্ত রেস্তোরাঁ ‘টাপিও’ ফিনল্যান্ডের রন্ধনশৈলীর মর্যাদা বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ফিনল্যান্ডে রয়েছে ‘এভরিম্যানস রাইট’ আইন, যা যেকোনো নাগরিককে বন, হ্রদ ও দ্বীপাঞ্চলে অবাধ প্রবেশের অধিকার দেয়। এমন সহজলভ্য প্রকৃতি মানসিক শান্তি এবং এন্ডরফিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা সুখের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

‘সিসু’: সুখের ফিনিশ দর্শন

ফিনল্যান্ডের নিজস্ব একটি ধারণা রয়েছে যার নাম ‘সিসু’। এর মধ্যে রয়েছে ধৈর্য, সাহস ও মানসিক দৃঢ়তা। সুখের এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু আবেগ নয়, বরং কঠিন সময়েও দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মনোভাব।

লেখিকা কাটজা পানজার ব্যাখ্যা করেছেন, সুখ ফিনল্যান্ডে সাংস্কৃতিকভাবে গভীরভাবে প্রোথিত। এখানকার প্রতিটি নাগরিক গড়ে ২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে কোন না কোন প্রাকৃতিক সম্পদের কাছাকাছি বাস করেন।

সমালোচনাও রয়েছে

তবে সব ফিনিশ নাগরিক এই ‘সুখী দেশের’ তকমাকে নিখুঁত বলে মানেন না। যেমন, পেনশনভোগী জুহা রোইহা মনে করেন, থাইল্যান্ড বা নেপালের মতো দেশেও মানুষ কম কষ্টে অনেক বেশি সুখী থাকতে পারেন। কিন্তু তিনি এটাও বলেন, “আমরা যা পেয়েছি, সেটাতেই খুশি।”

সুখের মডেল হিসেবে ফিনল্যান্ড

যদিও অনেক দেশেই ফিনল্যান্ডের মতো সুযোগ-সুবিধা নেই, কিন্তু দেশের নাগরিকদের মধ্যে যেভাবে জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ গড়ে উঠেছে—তা বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

২০২৬ সালে প্রকাশিত হতে যাওয়া টিম বার্ডের বই “হ্যাপি ল্যান্ড – ফাইন্ডিং দ্য ইনার ফিন” এ আরও বিস্তারিতভাবে উঠে আসবে এই ‘সুখী দেশ’ হওয়ার পিছনের গল্প।

সর্বশেষ - জাতীয়