বৃহস্পতিবার , ১০ জুলাই ২০২৫ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও

ভয়ঙ্কর মৃত্যুফাঁদ রেলক্রসিং: প্রতি বছর ২ শতাধিক দুর্ঘটনা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১০, ২০২৫ ৪:২৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে রেলক্রসিং এবং রেললাইনে অসতর্কতার কারণে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে যাচ্ছে বহু প্রাণ। অসচেতনতা এবং অরক্ষিত রেলক্রসিং-ই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকেই তুলে ধরেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর কাওলা রেলগেট এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ হারান অংকিতা মজুমদার নামে এক নারী। এরপর ২ মে খিলক্ষেত এলাকার রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে কমলাপুরগামী সুরমা মেইল ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। শুধু ঢাকাতেই নয়, কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রেললাইনে বসে গল্প করার সময় ট্রেনের নিচে পড়ে তিন বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। একই দিনে, ২ মে ভোরে ক্যান্টনমেন্ট স্টাফ রোড এলাকায় ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ৬০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। এছাড়াও, ঢাকার কুড়িলে ট্রেনের ভিডিও করতে গিয়ে আরেক ট্রেনের নিচে পড়ে এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেললাইনে মোবাইল ফোনে কথা বলা, ছবি তোলা, বা গল্প করার মতো অসতর্কতা এবং কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব, উভয়ই এই প্রাণহানির জন্য দায়ী।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান: এক জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৭৯ শতাংশ রেলক্রসিং অরক্ষিত। অর্থাৎ, ট্রেন চলাচলের সময় যান চলাচল আটকানোর মতো কোনো পাহারাদার বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই। এর ফলে এসব রেলক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

রেলওয়ের পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে:

  • সারা দেশে মোট রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ২ হাজার ৮৫৬টি।
  • এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬১টির কোনো অনুমোদনই নেই।
  • ১ হাজার ৪৯৫টি বৈধ ক্রসিংয়ের মধ্যে ৬৩২টিতে কোনো গেটম্যান নেই।
  • মাত্র ২৪২টিতে রেলের স্থায়ী রক্ষী এবং ৮২০টিতে চুক্তিভিত্তিক রক্ষী রয়েছেন, যা মোট বৈধ ক্রসিংয়ের মাত্র ৩১ শতাংশ।

অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর সারা দেশে রেলক্রসিংয়ে দুই শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও তার চেয়ে বেশি। দুর্ঘটনার ৮৯ শতাংশের উৎসই লেভেল ক্রসিং।

গত প্রায় চার বছরে সারা দেশে রেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। গত ১৬ বছরে সহস্রাধিক মৃত্যুর মধ্যে শুধুমাত্র লেভেল ক্রসিংয়েই ৬৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

আইন প্রয়োগে শিথিলতা: বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, রেল চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের প্রচলিত আইন থাকলেও তার প্রয়োগ হচ্ছে না। বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, রেললাইনের দুই পাশে ১০ ফুট পর্যন্ত এলাকা ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকা হিসেবে গণ্য হয় এবং সেখানে কারও অবস্থান বেআইনি। আইন অমান্য করলে গ্রেপ্তার এমনকি গবাদি পশু ওই এলাকায় প্রবেশ করলে সেটি জব্দ করে বিক্রিরও বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই আইন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। মানুষ এই আইন জানেও না এবং মানেও না, যার ফলশ্রুতিতে অকালে ঝরছে মূল্যবান প্রাণ। একটি ছবি তুলতে, কল ধরতে বা সামান্য সময়ের জন্য গল্প করতে গিয়ে অনেকেই চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ - জাতীয়

শুক্রবার মিত্রদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করবে বিএনপি

তৌহিদ আফ্রিদির অন্ধকার জগতের নতুন তথ্য ফাঁস

শিবিরি সেক্রেটারি আ.লীগের আমলে বিরোধীদের মানবাধিকার ছিল না

সিলেটে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভা শুরু, প্রধান অতিথি তারেক রহমান

সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ৩২ বস্তা টাকা

হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন চাইলেন তারেক রহমান

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ইরানের মুখোমুখি: উত্তপ্ত পরিস্থিতি

নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকার পুনর্গঠনের আহ্বান সিপিবির

মিয়ানমারে সেনাশাসনের রূপ বদল, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ‘ক্ষমতা হস্তান্তর’