মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হাজারো শরণার্থীকে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৮০ হাজার শরণার্থী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। এদের মধ্যে অনেকে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সীমান্তবর্তী ক্যাম্পগুলোতে বসবাস করছেন।
সরকারি তথ্যমতে, থাই-মিয়ানমার সীমান্তের নয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত ৪২ হাজারেরও বেশি শরণার্থী কর্মক্ষম বয়সে রয়েছেন। তাদেরই প্রথম ধাপে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়া হবে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর সরকারি মুখপাত্র জিরায়ু হংসুব বলেন, এই সিদ্ধান্তে একদিকে শরণার্থীরা নিজেদের পরিবারকে সহায়তা করতে পারবেন, অন্যদিকে থাইল্যান্ডের শ্রমঘাটতি মেটাতে বড় অবদান রাখবে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি শরণার্থীদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে, জিডিপি বাড়াবে এবং মানবিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমাবে। বিশেষ করে যেহেতু ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের পর শ্রমিক সংকটে পড়া থাইল্যান্ডের জন্যও এই উদ্যোগ কার্যকর হবে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ মিয়ানমার নাগরিক বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।
জাতিসংঘ মনে করছে, থাইল্যান্ডের এ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।



















