ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ বিএনপির
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা একটি লিখিত বক্তব্য দেন, যেখানে বলা হয়—দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর রক্তাক্ত ছাত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিএনপির মতে, এই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ বাড়ছে। কিছু উপদেষ্টার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে তারা আলাদাভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর ও মানবিক করিডোর সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিএনপি। তারা দাবি করে, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসব সিদ্ধান্ত শুধু একটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই নিতে পারে, অস্থায়ী সরকারের নয়।
নির্বাচন কমিশন ও আইন শাসন নিয়ে উদ্বেগ
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও বিএনপি উদ্বিগ্ন। কমিশন গঠনে সবপক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কিছু পক্ষ এর পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে। পাশাপাশি দলটি দাবি করে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণে বিলম্ব আইন শাসনের লঙ্ঘন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ ও বিচার দাবি
বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলে, একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই জনগণের ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকার যদি এ বিষয়ে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের সহযোগিতা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় দলটি।
এছাড়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলমান রাখার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সংস্কার প্রক্রিয়া একযোগে চালু রাখার পক্ষেও অবস্থান জানায় বিএনপি।
লিখিত বক্তব্যে দলটি আরও জানায়, বারবার প্রস্তাব উপেক্ষিত হলে সরকারের প্রতি পরামর্শ দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে যাবে। তারা আশা করে, সরকার একটি ঐক্যমতের ভিত্তিতে দেশের দায়িত্বশীল পরিচালনার সক্ষমতা দেখাবে।



















