ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী এবং পথচারীদের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মালিক-শ্রমিকদের জন্য ডিএমপি’র কঠোর বার্তা
- ভাড়া ও হয়রানি নিষিদ্ধ: নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না। একই সিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করাও যাবে না।
- যাত্রী বহন নীতিমালা: বাসের ছাদে বা পণ্য ও পশুবাহী যানবাহনে (বিশেষ করে ফেরার পথে) কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না। বাস ছাড়বে সিডিউল অনুযায়ী।
- চালক ও গাড়ির নিরাপত্তা: চালকদের গতিসীমা মেনে এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকায়, বাঁকে বা সরু ব্রিজে ওভারটেকিং করা যাবে না। নেশাগ্রস্ত অবস্থায়, ঘুমঘুম ভাব নিয়ে বা অসুস্থ শরীরে গাড়ি চালানো যাবে না। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো নিষেধ। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা এয়ারফোন ব্যবহার এবং উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না। উল্টো রাস্তায় গাড়ি চালানোও নিষিদ্ধ।
- দায়িত্বশীল নিয়োগ: চালক নিয়োগের আগে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করতে হবে। মালিকরা একটানা ৫ ঘণ্টা বা দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে চালকদের বাধ্য করতে পারবেন না।
যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি আহ্বান
- যাত্রীদের জন্য: সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল/কাউন্টারে গিয়ে বাসে উঠতে হবে। অপরিচিত কারো দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে না এবং মালামাল নিজ হেফাজতে রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনালে পৌঁছাতে হবে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী/পশুবাহী মোটরযানে যাত্রী হয়ে যাতায়াত করা যাবে না।
- পথচারীদের জন্য: রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং, ফুট ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করতে হবে। দৌড়ে বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়া যাবে না। অবশ্যই ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে হবে।
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোলরুমে অথবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলা আমাদের সবার জন্যই জরুরি। এই বিষয়ে আপনার আর কোনো প্রশ্ন আছে কি?



















