শরীয়তপুর ও রাঙামাটিতে নদীভাঙন ও পানিবন্দি অবস্থা, জনদুর্ভোগ চরমে
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে শরীয়তপুরের জাজিরায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাজারো মানুষের মাঝে। জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের জিরো পয়েন্টে পদ্মার ভাঙনে ধসে পড়েছে আলম খাঁর কান্দি জামে মসজিদের দ্বিতল ভবন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রাম প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয়দের আতঙ্ক কাটছে না। ভাঙনের মুখে শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। চলতি বছরে ছয়বারের মতো ভাঙনে প্রায় ৬৫০ মিটার রক্ষাবাঁধ নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে স্থানীয় বাজার, বসতঘর ও কৃষিজমি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এদিকে, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ডুবে গেছে সাজেক যাওয়ার প্রধান পাহাড়ি সড়ক। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ১০৮ ফুট এমএসএল-এ পৌঁছেছে, যা প্রায় বিপৎসীমায় রয়েছে। তাই নিয়ন্ত্রিতভাবে ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছেড়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, “সংকটের মধ্যে কিছু পর্যটক সাজেকে পৌঁছালেও সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের নিরাপদে রাখা হয়েছে।”
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একদিকে ভাঙনের কবলে পড়া পরিবারগুলো হারাচ্ছে সর্বস্ব, অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ ও পর্যটকরা পড়েছেন বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।



















