শুক্রবার , ১১ জুলাই ২০২৫ | ৫ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও

বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে ফেনির নতুন নতুন গ্রাম, ভোগান্তি চরমে

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১১, ২০২৫ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

ফেনী, ১১ জুলাই, ২০২৫: ফেনীতে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। যদিও পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, তবে তা নিম্নাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে নতুন করে ফেনী সদর ও ছাগলনাইয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামকে প্লাবিত করেছে। এর ফলে চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্যা দুর্গত এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং যান চলাচলেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।

বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিভ্রাট: বন্যার কারণে ফেনীর চার উপজেলাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। ফেনী-ফুলগাজী ও ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৮২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ হাজার ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। গতকাল রাত পর্যন্ত পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং অসুস্থসহ ১৮ জনকে সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।

নদী বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত: পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের কারণে শুক্রবার পর্যন্ত ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের মুহুরি, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২১টি স্থান ভেঙে গেছে। এর ফলে ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া এবং ফেনী সদর উপজেলার অন্তত শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বুধবার থেকে বৃষ্টি কমে এলেও, পরশুরামের পানি ধীরে ধীরে নেমে ফুলগাজীর নিম্নাঞ্চল গড়িয়ে ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলায় প্রবেশ করতে শুরু করে।

নতুন করে প্লাবিত এলাকা: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ফেনী-ছাগলনাইয়া সড়কের রেজুমিয়া থেকে পৌরসভা পর্যন্ত অংশে এক থেকে দুই ফুট পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। এর ফলে ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠান নগর, রাধা নগর, শুভপুর এবং ছাগলনাইয়া পৌরসভার অন্তত ২০টি গ্রাম নতুনভাবে প্লাবিত হয়েছে। এই পানি আরও এগিয়ে ফেনী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রবেশ করছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বাঁধভাঙা পানি ঢুকে ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ, মোটবী, ছনুয়া ও ফাজিলপুর ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম নতুনভাবে প্লাবিত করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বন্যায় ফেনীর পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার অন্তত ১০৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

আবহাওয়া ও পানি পরিস্থিতি: ফেনীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ক্রমান্বয়ে বৃষ্টিপাত কমছে এবং শুক্রবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, মুহুরি নদীর পানি ১.৯৩ মিটার বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পানির চাপ কমে যাওয়ায় নতুন করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা নেই এবং পানি কমে গেলেই ভাঙনকবলিত স্থানগুলো মেরামত করা হবে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলার ৪টি বন্যা কবলিত উপজেলার মধ্যে পরশুরামে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে এবং ফুলগাজীতেও কিছুটা ভালো অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ছাগলনাইয়া এবং ফেনী সদরে নতুন করে পানি প্রবেশ করায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। জেলা প্রশাসন বন্যাকবলিতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সর্বশেষ - জাতীয়

চীনের জে-২০ যুদ্ধবিমান: রাডার ভেদে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার সক্ষমতা

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে ভারতের অগ্রগতির কথা জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের বিকল্প নেই: তারেক রহমান

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা অভিমুখে মানুষের ঢল: কর্মচঞ্চল হচ্ছে রাজধানী

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটি কেটে বিক্রি, ঝুঁকিতে ৪ গ্রাম

মোকাবেলার চেয়ে দুর্যোগ প্রশমনই বেশি জরুরি: ফারুক-ই-আজম

ক্ষতিপূরণ দিয়ে জাবি ছাড়লো ২৮ বাস

উত্তর বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-৩ গঠনের ইঙ্গিত আইন উপদেষ্টার

কাতার ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান