লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম (অব.) বলেছেন, “ইউনূস সাহেবের কী অবস্থা হয় আল্লাহ জানে। আরো অনেক ঘটনা বাকি রয়ে গেছে। এখন মাত্র ট্রেইলার শুরু। খেলা শুরু হয়নি।” তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তাদের একা রাজনৈতিক দল গঠন করা উচিত হয়নি, বরং ‘রেভ্যুলেশনের গার্ড’ বা ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে কাজ করা উচিত ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ঢাকার আইডিইবি মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর এলডিপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমদ অভিযোগ করেন, “কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের লোক তাদেরকে বুদ্ধি দিয়েছেন। কিছু নাস্তিক লোকের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক হয়েছে। এই নাস্তিকেরা আমাদের ছেলেগুলোকে বিপথগামী করেছে।” তিনি তার অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তখনই তাকে বলা হয়েছিল যে ছাত্ররা রাজনৈতিক দল করবে। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, “গ্রামে কিছু লোকের ছেলেপেলে পয়সা থাকলে, তারা বেলুন ফোটায়। বেলুন ফুলিয়ে রাস্তায় ঘুরে, আর কিছু দুষ্টু ছেলে এসে সেটা ফুটা করে দেয়। ছাত্রদের অবস্থা এটাই হবে। কারণ মাথার উপরে ছায়া না থাকলে রোদ-বৃষ্টি সবকিছু সামাল দিতে হবে।” তিনি যোগ করেন, তারা এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) করেছে, কিন্তু তাদের মাথার উপরে কোনো ছাদ নাই। “ইউনূস সাহেব তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। ইউনূস সাহেবের কী অবস্থা হয়- এটা আল্লাহই জানে।”
তিনি আরও বলেন, “তিন মাস আগের থেকে বলতেছি- আরো অনেক রক্তপাত বাকি আছে। কারণ এটা সম্পূর্ণ আকার ধারণ করেনি।” অলি আহমদ তথাকথিত ‘বুদ্ধিজীবী পাগলদের’ সমালোচনা করে বলেন, “মাথা কাজ করে না। আল্লাহকে মানে না, রাসূলকে মানে না। কিন্তু টুপি মাথা ঠিকই দেয়।” তিনি বিপ্লব, আন্দোলন ও যুদ্ধের পার্থক্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ হলো একটা সশস্ত্র সংগ্রাম। দুই গ্রুপের মধ্যে অস্ত্র থাকে। দুই গ্রুপে যুদ্ধ করে। সেই যুদ্ধটা কী জন্য হয়? দেশকে স্বাধীন করার জন্য হয়, বা অন্য দেশকে দখল করার জন্য হয়। এখানে তো এরকম কোনো ব্যাপার ছিল না। দেশকে স্বাধীন করার ব্যাপারও ছিল না। অধিকার করার ব্যাপারও ছিল না। এখানে ব্যাপারটা ছিল হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ করার, আওয়ামী লীগ মুক্ত বাংলাদেশ করার।” সুতরাং তার মতে, বিপ্লব বা একদফার আন্দোলন, আর মুক্তিযুদ্ধ একই জিনিস না।
অলি আহমদ পরিশেষে বলেন, “এ সমস্ত মাথায় যারা টুপি দিয়ে কিছু পাগল ছেলেদেরকে বুঝাচ্ছে, তাদেরকে আমি অনুরোধ করব, পাগলামি ছাড়ো। গাঁজা খাওয়ার খাও। কিন্তু মানুষকে গাঁজা খাওয়ানোর চেষ্টা করো না।”



















