বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) নির্বাচনী ব্যবস্থা বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও চরমপন্থার পথ সুগম করতে পারে। তিনি দেশের প্রেক্ষাপটে এই পদ্ধতিকে “বিভ্রান্তিমূলক সমাজ সৃষ্টি এবং অস্থিরশীলতার কারণ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন।
আজ সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আয়োজনে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের অবদান নিয়ে পেশাজীবী সমাবেশ এবং শহীদ-নির্যাতিত পরিবারকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের ঐক্য চাইলে কোনোভাবেই সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু হওয়া উচিত নয়। তিনি যুক্তি দেন, “এই ধরনের দাবিকে কোনো দল গণতান্ত্রিক অধিকার বিবেচনা করলেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ উপযোগী নয় বলেই আমরা মনে করি।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, সংবিধিবদ্ধ বিধিবিধান আর আইনকানুন দিয়ে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারকে আটকানো যায় না, বরং “আইন না মানার কারণেই কেউ ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারে।” এ জন্য জনগণকে যেকোনো মূল্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, রাষ্ট্রে জনগণের সকল প্রকার গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ “জনগণের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক চর্চা যদি থাকে, ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার মোকাবিলায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই কিন্তু যথেষ্ট।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে তারেক রহমান রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সহায়তার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে তিনি অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশনাও দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইউট্যাব’র মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের যৌথ পরিচালনায় বক্তব্য দেন বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন পেশায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গ এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা।



















