ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার সংকটের কারণে গাজা সিটিতে পরিকল্পিত সামরিক অভিযানে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে দেশটি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শত শত রিজার্ভ সেনা আসন্ন গাজা অভিযানে চাকরিতে ফিরে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, জিম্মিদের নিরাপত্তা, এবং সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ—এই তিনটি প্রধান কারণেই সেনাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে উঠেছে।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ৬০ হাজার রিজার্ভ সদস্যকে পুনরায় ডাকার নির্দেশ দিলেও, উপস্থিতি কম থাকায় অভিযান কার্যকর বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে সেনাবাহিনী।
🛑 জিম্মিদের জীবন ও সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন
রিজার্ভ বাহিনীর অনেকেই বলছেন, গাজা দখলের পরিকল্পনার সঙ্গে জিম্মি মুক্তির কোনও বাস্তব সম্পর্ক নেই। এক সেনা বলেন, “২৮০ দিনেরও বেশি সময় ধরে গাজায় যুদ্ধ করেছি। এই অভিযান আমাদের জন্য কেবল আরও রক্তপাত ছাড়া কিছু নয়।”
আরেকজন রিজার্ভ কমান্ডার বলেন, “আমরা বুঝে গেছি—এটা এমন এক যুদ্ধ, যা সেনাবাহিনী নিজেও চায় না।”
📢 খোলামেলা প্রতিবাদ ও বয়কটের ঘোষণা
প্রায় ৩৫০ রিজার্ভ সদস্য এক যৌথ বিবৃতিতে গাজা পুরোপুরি দখলের সিদ্ধান্তকে “অবৈধ” ও “ঝুঁকিপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা স্পষ্ট জানান, নতুন করে ডাকা হলে তারা রিপোর্ট করবেন না।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানায়, সেনাবাহিনী ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন এতটাই বেড়েছে যে, এখন রিজার্ভ বাহিনীর সদস্যদের মানসিক অবস্থাও বিবেচনায় আনতে হচ্ছে। বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজেদের কমান্ডারদের সৈন্যদের মতামত শোনার নির্দেশ দিয়েছেন।
⚠️ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ
আরও একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমান্ডার বলেন, “নেতানিয়াহু কেবল নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন, যেখানে সাধারণ সৈন্য আর বসতি স্থাপনকারীরা অকারণেই প্রাণ হারাচ্ছেন।”
💬 সেনাপ্রধানের সতর্কতা
এদিকে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও গাজা দখলের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।



















