রবিবার , ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৫ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও

অভিযুক্তের ব্যাংকে ১২৭ কোটি টাকা লেনদেন হাদির কবর দেখতে মানুষের ভিড়

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ ৯:৪০ অপরাহ্ণ

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকান্ডে মূল অভিযুক্ত ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব তথ্য নিয়ে এরই মধ্যে মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি। গতকাল সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এসব জানান। সিআইডি জানায়, মূল অভিযুক্ত ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু চেক বইয়ে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থের কথা উল্লেখ রয়েছে।

চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব রেকর্ডের সমষ্টিগত মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা। সিআইডি বলছে, মূল অভিযুক্ত ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুততম সময়ে যেন বাজেয়াপ্ত করা যায় সেজন্যও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হত্যাকান্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংঘবদ্ধ এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না সে বিষয়েও সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।

 

হাদির কবর দেখতে মানুষের ভিড় : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন দেশের বর্তমান প্রজন্মের বিপ্লবী ও সাহসী কণ্ঠ শহীদ শরিফ ওসমান হাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে বিদ্রোহী ও বিপ্লবী কবির পাশাপাশি শায়িত হওয়াটা যেন শক্তির প্রতীকে পরিণত করেছে। গত শনিবার বিকালে জাতীয় কবির পাশে দাফন করা হয় ওসমান হাদিকে। পরদিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছুটে আসেন হাদির কবর দেখার জন্য। শুধু রাজধানী নয়, দেশের দূরদূরান্ত থেকেও আসেন নানা বয়সি মানুষ।
কেউ সেখানে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, আবার কেউ আকাশের দিকে হাত তুলে হাদির পরকালের শান্তির জন্য দোয়া করেন। এতে শোক আর ভালোবাসার মিশেলে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে ভারী ও আবেগময়। 

গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, সমাধিসৌধের সামনের অংশে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর বলয় খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শাহবাগ থানা ও টিএসসি এলাকায় স্থাপিত ব্যারিকেডও তুলে দেওয়া হয়। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন স্থানে এখনো পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।

পাশাপাশি কবরস্থানে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত মসজিদের গেট এবং বাইরের প্রধান ফটকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিল। যাত্রাবাড়ী থেকে ওসমান হাদির কবর দেখার জন্য আসে নবম শ্রেণির ছাত্র শরীফ খইয়ম। সে বলে, ‘হাদি ভাই ছিলেন বিপ্লবী মানুষ। তিনি বিপ্লবীদের অগ্রদূত। ’ রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব তাকফারুল অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলেন, হাদি মারা যাওয়ার পর যেভাবে তার কবর পাহারা দেওয়া হচ্ছে, সেই নিরাপত্তা যদি আগেই দেওয়া হতো, তাহলে আজ হয়তো হাদি বেঁচে থাকতেন।

সর্বশেষ - জাতীয়