আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্রের উত্থানের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও সাবেক সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিক।
বিভিন্ন সূত্র মতে, বিগত ১৫ বছরে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অস্ত্র, সরঞ্জাম ও অবকাঠামো উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষত সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করতেন তিনি, যা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ওপেন সিক্রেট ছিল বলে জানা যায়।
একাধিক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, চীন থেকে যুদ্ধবিমান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ তিন গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে। বিমান বাহিনীর অনুপযুক্ত প্রশিক্ষণ বিমান কেনার ঘটনায় দুর্ঘটনায় শিশু ও পাইলট নিহত হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এই কেনাকাটার পেছনের দুর্নীতি নিয়ে।
২০০১ সালে তার বিরুদ্ধে মিগ-২৯ ও বিএনএস বঙ্গবন্ধু ফ্রিগেট কেনার সময় দুর্নীতির মামলা হলেও, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি বন্ধ হয়ে যায়।
বলা হচ্ছে, সামরিক সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্তে তারিক সিদ্দিকের সম্মতি ছাড়া কিছুই হতো না। তিনি শুধু কমিশনই গ্রহণ করেননি, বরং নিজের ঘনিষ্ঠজনদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দিতেন।
বছরের পর বছর ধরে সরাসরি ক্রয় বা ‘ডাইরেক্ট পারচেজ’-এর নামে নানা উন্নয়নকাজে সশস্ত্র বাহিনীর নামে বরাদ্দ নিয়ে ঠিকাদার নিয়োগেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজের মাধ্যমে তারিক সিদ্দিক বিপুল সম্পদ বিদেশে পাচার করেছেন বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গত দেড় দশকে তারিক সিদ্দিকের কমিশনভিত্তিক আয় হাজার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।



















