দুর্নীতির একটি মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (২৮ মে) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান সব মামলায় দণ্ড ও সাজামুক্ত হলেন।
মামলার বিস্তারিত:
গত সোমবার শুনানি শেষে উচ্চ আদালত আপিলের রায় ঘোষণার জন্য ২৮ মে দিন ধার্য করেছিলেন। আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী আসিফ হাসান, আপিলের পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান, কায়সার কামাল ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী এস এম শাহজাহান দাবি করেন, তারেক রহমানের নামে দেখানো কোনো সম্পত্তিই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বা অসাধু উপায়ে অর্জিত নয়। তিনি বলেন, “একটা টাকা বা একটা সম্পত্তিও বাংলাদেশের বাইরে না। বাংলাদেশের বাইরে এ পরিবারের কোনো ঠিকানা নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়িটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে দেওয়া হয়েছিল এবং গুলশানের আরেকটি সম্পত্তিও রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দকৃত। এই সম্পত্তিগুলোকেই অবৈধ সম্পদ দেখিয়ে মামলায় তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, যা তিনি ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেন।
পূর্ববর্তী রায় ও জুবাইদা রহমানের প্রত্যাবর্তন:
গত ১৪ মে হাইকোর্ট ডা. জুবাইদা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে তার জরিমানা স্থগিত করে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হয়। এর আগে, গত ১৩ মে আপিল দায়েরে ৫৮৭ দিনের বিলম্ব মার্জনা করেন হাইকোর্ট, যার পর ডা. জুবাইদা রহমান সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তারেক রহমান, জুবাইদা রহমান ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। এই মামলার বিচার শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. আছাদুজ্জামান তারেক রহমানকে দুই ধারায় মোট নয় বছর এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ে তারেক রহমানকে ২৬ (২) ধারায় তিন বছর এবং ২৭ (১) ধারায় ছয় বছরের কারাদণ্ডসহ তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ডা. জুবাইদা রহমানকে ২৭(১) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর চলতি বছরের ৬ মে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।



















