কোরবানির ঈদের মাত্র আর একটি দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে এসে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। স্থান সংকট ও বৃষ্টির কারণে কয়েকদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের দাবি, এ বছর পশুর দাম তুলনামূলকভাবে সাধ্যের মধ্যে থাকায় তারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন।
হাটের সার্বিক চিত্র
রাজধানীর ২১টি পশুর হাটে চলছে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা। শনির আখড়া, ধোলাইখাল থেকে শুরু করে গাবতলী ও দিয়াবাড়ি—সবখানেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।
শনির আখড়া (দক্ষিণ সিটি করপোরেশন): বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই শনির আখড়ার অস্থায়ী পশুর হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে পশুর বিক্রিও। বিক্রেতারা আশা করছেন, আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার জমজমাট বেচাকেনা হবে। আশিক নামের একজন ক্রেতা জানালেন, বাসায় গরু রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলার কারণে তিনি শেষ মুহূর্তে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতদিন হাট পুরোপুরি জমে না ওঠায় দাম নিয়েও তার কিছুটা সংশয় ছিল। হাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত তিন দিন বিক্রি প্রায় বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই বিক্রি বেড়েছে।
ধোলাইখাল বাজার: সালাউদ্দিন আহমেদ নামের একজন ক্রেতা ধোলাইখাল বাজারে নিজের পছন্দের গরুটি কিনতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তাকে খুব বেশি দরদাম করতে হয়নি এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকাতেই গরুটি কিনতে পেরেছেন।
গাবতলী পশুর হাট: গাবতলী হাটেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হাট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আজ গরু-ছাগল বেশ বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও দাম নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ওয়াসিফ ইসলাম নামের একজন ক্রেতা দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে গরু কেনার লক্ষ্য নিয়ে হাটে এসেছেন।
ছোট গরুর জয়জয়কার
শনির আখড়া, ধোলাইখাল ও গাবতলী—সবখানেই ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই আকারের গরু ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, বড় গরু নিয়ে অনেক বিক্রেতাই কিছুটা বিপাকে পড়েছেন।
অন্যান্য পশু
গরুর পাশাপাশি রাজধানীর হাটগুলোতে ছাগলও বেশ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কিছু হাটে উট, দুম্বা, মহিষ ও ভেড়াও বেচাকেনা হচ্ছে, যা অনেকের কোরবানির তালিকায় নতুন সংযোজন।



















