সোমবার , ১৬ জুন ২০২৫ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. বানিজ্য/অর্থনীতি
  2. ভিডিও

ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ পোশাক শিল্পে নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১৬, ২০২৫ ২:০৭ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেছেন, পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাঁর মতে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত পোশাক শিল্পের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সব খাতে পড়বে এবং পোশাক শিল্পও এর বাইরে থাকবে না।

সোমবার (১৬ জুন) রাজধানীর উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে বিজিএমইএ-এর ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের নব-নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র প্রশাসক আনোয়ার হোসেন নব-নির্বাচিত সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ফারুক হাসান, ড. রুবানা হক, এস এম ফজলুল হক, কাজী মনিরুজ্জামান এবং আনিসুর রহমান সিনহা উপস্থিত ছিলেন।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাক শিল্প একদিকে যেমন নানা স্থানীয় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়েও যাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ, ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল, উচ্চ ব্যাংক সুদ, মুদ্রাস্ফীতি, মজুরি বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির চাপে আমরা অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় আছি। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে অনেক কাজ করতে হবে এবং তিনি বিশ্বাস করেন সকলের সহযোগিতায় তা সম্ভব হবে।

বিজিএমইএ’র নব-নির্বাচিত সভাপতি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, পোশাক শিল্পের জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন, এসএমই ও নন-বন্ডেড পোশাক কারখানাকে বাড়তি সুবিধা প্রদান, কাস্টমস ও ভ্যাট নিয়ে কাজ করা, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রভাব নিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা এবং মার্কিন শুল্ক সহনীয় পর্যায়ে রাখার বিষয়ে তারা কাজ করবেন। এছাড়াও, একটি কার্যকর এক্সিট পলিসি তৈরির ওপরও তিনি জোর দেন।

বিজিএমইএ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন তার বিদায়ী বক্তব্যে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে তারা কাজ করতে পেরেছেন এবং শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি বন্ডেড ওয়ারহাউস, সার্কুলার ইকোনমি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরি এবং জুলাই বিপ্লবীদের পরিবারের জন্য কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ-কে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা পণ্য রপ্তানি করেন না, আপনারা জাতির স্বপ্ন রপ্তানি করেন। আমি এখানে এসেছিলাম একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে, আর এখন দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে আমি ফিরছি আপনাদের সহযাত্রী হিসেবে।”

সভা শেষে সম্মিলিত পরিষদ এবং ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বিজিএমইএ-এর নতুন পরিচালনা পর্ষদকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়াও, বিকেএমইএ এবং নন-বন্ডেড এসএমইএ’র পক্ষ থেকেও নতুন পর্ষদকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সর্বশেষ - জাতীয়