সোমবার , ৭ জুলাই ২০২৫ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ভিডিও

ট্রাম্পের চোখে মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ ‘হাস্যকর’

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৭, ২০২৫ ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক, যিনি সম্প্রতি ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণাকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প মাস্ককে ‘ট্রেন রেক’ (সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত অবস্থা) বলেও মন্তব্য করেছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার প্রতি তার আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ ঘোষণা ও তার কারণ: শনিবার (৫ জুলাই) ইলন মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপটি এসেছে ট্রাম্পের সদ্য স্বাক্ষরিত একটি ব্যয়বহুল কর-হ্রাস এবং ব্যয় বিলের প্রতিক্রিয়ায়, যা মাস্কের মতে দেশকে দেউলিয়া করে দেবে। মাস্ক তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’-এ একটি জরিপ চালান, যেখানে অধিকাংশ ব্যবহারকারী একটি নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে মত দেন। মাস্কের যুক্তি, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ‘এক-দলীয়’ শাসন চলছে, যেখানে উভয় প্রধান দলই দেশের ঋণ বাড়াচ্ছে এবং মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করছে। তিনি ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের মাধ্যমে মানুষের ‘স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে’ চান।

ট্রাম্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া: মাস্কের এই ঘোষণার মাত্র একদিন পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সরাসরি এর সমালোচনা করেন। রবিবার (৬ জুলাই) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি তৃতীয় দল শুরু করা হাস্যকর।” তিনি আরও যোগ করেন, “রিপাবলিকান পার্টির বিশাল সাফল্য আছে। ডেমোক্র্যাটরা পথ হারিয়েছে, কিন্তু এটি সবসময়ই একটি দুই-দলীয় ব্যবস্থা ছিল এবং আমি মনে করি একটি তৃতীয় দল শুরু করা কেবল বিভ্রান্তি বাড়ায়। এটি সত্যিই দুটি দলের জন্য তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়। তৃতীয় দল কখনো কাজ করেনি, তাই সে এটা নিয়ে মজা করতে পারে, কিন্তু আমি মনে করি এটা হাস্যকর।”

শুধু সাংবাদিকদের সামনেই নয়, ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টেও ইলন মাস্কের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “আমি ইলন মাস্ককে গত পাঁচ সপ্তাহে সম্পূর্ণরূপে ‘পথভ্রষ্ট’ হতে দেখে দুঃখিত, যা তাকে মূলত একটি ‘ট্রেন রেক’-এ পরিণত করেছে। সে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক দলও শুরু করতে চায়, যদিও যুক্তরাষ্ট্রে তারা কখনো সফল হয়নি – মনে হয় এই সিস্টেম তাদের জন্য তৈরি হয়নি।” ট্রাম্প আরও বলেন, “তৃতীয় দলগুলো কেবল ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ’ সৃষ্টি করার জন্য ভালো, এবং আমাদের কাছে ইতিমধ্যেই চরম বামপন্থী ডেমোক্র্যাটদের থেকে যথেষ্ট বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ রয়েছে, যারা তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে।”

সম্পর্কের ফাটল এবং মতবিরোধের মূল: উল্লেখ্য, ইলন মাস্ক একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন বড় সমর্থক এবং ২০২৪ সালের পুনঃনির্বাচনের প্রচেষ্টায় লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করেছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে মাস্ক ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (DOGE)’ নামক একটি বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যার লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যয় কমানো। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস এবং অন্যান্য স্থানেও মাস্ককে প্রায়শই প্রেসিডেন্টের পাশে দেখা যেত।

তবে, সাম্প্রতিক ‘ওয়ান বিগ, বিউটিফুল বিল’ নামক ব্যয় বিলটি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। মাস্ক এই বিলটিকে ‘অসম্মানজনক’ ও ‘দেশকে দেউলিয়া করে দেবে’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন। ট্রাম্প পাল্টা অভিযোগ করেন যে মাস্ক ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) ম্যান্ডেট বাতিল করার কারণে তার বিরোধিতা করছেন, যা ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে মাস্ক নাসার (NASA) নিয়োগেও প্রভাব খাটাতে চেয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের কাছে অনুপযুক্ত মনে হয়েছে।

ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ: ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা মার্কিন রাজনীতিতে একটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যদিও তৃতীয় দলগুলো অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে খুব কমই সফল হয়েছে, তবে মাস্কের বিপুল সম্পদ এবং সামাজিক মাধ্যমে তার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাস্কের এই উদ্যোগ রিপাবলিকান পার্টির ভোট ভাগ করতে পারে, যা ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং তার পরের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সর্বশেষ - জাতীয়