দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি এবং করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি সার্বিক নির্দেশনাপত্র রবিবার (২০ জুলাই) দেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, বিভাগীয় ও জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাপত্রে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ১৫টি এবং করোনা চিকিৎসায় ৯টি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় মূল নির্দেশনাগুলো হলো:
- সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ফ্লু কর্নার/ফিভার কর্নার স্থাপন করতে হবে, যেখানে ডেঙ্গু রোগীদের তীব্রতা অনুযায়ী ‘ট্রিয়াজ’ করে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
- সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের মজুত নিশ্চিত করতে হবে।
- বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি সরকারের পূর্বনির্ধারিত হারে প্রযোজ্য হবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তা নজরদারিতে রাখবে।
- প্রয়োজনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের উচ্চতর হাসপাতালে রেফার করতে হবে।
- সব হাসপাতালে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড বেড/ওয়ার্ড এবং প্রশিক্ষিত সুনির্দিষ্ট চিকিৎসক দল থাকতে হবে।
- ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আইভি ফ্লুইডের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- প্রতিটি রোগীর ফ্লুইড গ্রহণ ও বর্জনের চার্ট নিয়মিত রেকর্ড ও মনিটরিং করতে হবে।
- ডেঙ্গু রোগীদের জাতীয় গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে; প্রয়োজনে প্লাটিলেট ২১টি নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
- হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য গঠিত মৃত্যু পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় (সিডিসি) পাঠাতে হবে।
- ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মোবাইল নম্বর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করতে হবে, কারণ জিও লোকেশন ট্রেসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ডেঙ্গু ট্র্যাকার অ্যাপের ব্যবহার সরকারি ও বেসরকারি সব ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত করতে হবে।
- স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ডেঙ্গুবিষয়ক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
- হাসপাতালের ভেতর ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে।
- হাসপাতালের দর্শনার্থীদের সংখ্যা সীমিত রাখতে হবে।
করোনা চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো হলো:
- সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোভিড প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতা (মাস্ক, পিপিই) নিশ্চিত করতে হবে।
- হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে জ্বরের রোগীদের বিশেষভাবে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
- হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
- হাসপাতালে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয়সংখ্যক আইসোলেশন/কোভিড শয্যা নিশ্চিত করতে হবে।
- হাসপাতালে চাহিদা অনুযায়ী সিডিসি থেকে র্যাপিড অ্যান্টিজেন কিট সংগ্রহ করতে হবে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিট সংগ্রহের প্রস্তুতি নিতে হবে।
- অ্যান্টিজেন টেস্টে কোভিড পজিটিভ রোগীদের আরটি পিসিআর ল্যাবে নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করতে হবে এবং তথ্য DHIS2 ও MIS সার্ভারে এন্ট্রি করতে হবে।
- যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো কোভিড রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা যাবে না; প্রয়োজনে রেফারেল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
- কোভিড চিকিৎসার ক্ষেত্রে জাতীয় কোভিড-১৯ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন-দশম ভার্সন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে।
- হাসপাতালে আগত রোগী/দর্শনার্থীদের কোভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সচেতন করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।



















