মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক গণবিরোধী পদক্ষেপ, অভিবাসনবিরোধী নীতি এবং বিভিন্ন শহরে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে শ্রমিক সংগঠন ‘এএফএল-সিআইও’। আগামী ১ সেপ্টেম্বর সোমবার, যা দেশটিতে পালিত হচ্ছে ‘শ্রমিক দিবস’, সে দিন আমেরিকার অন্তত ৯০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে কর্মসূচি
শ্রমিক দিবসে এই কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দেশজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ ধরনের বিক্ষোভ ডেমোক্র্যাটপন্থী অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করবে।
শিকাগো টিচার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাকসন পোটার এ বিষয়ে বলেন, “ট্রাম্পের পদক্ষেপে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে এবং অভিবাসীরা ক্রমশ নিগৃহীত হচ্ছে। এ অবস্থাকে আমরা মেনে নিতে পারি না।”
আগের কর্মসূচিগুলোর ধারাবাহিকতা
এর আগে ১৪ জুন ‘নো কিংস’ কর্মসূচি এবং ২ আগস্ট আরেকটি প্রতিবাদী কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পালিত হয়েছিল। এবারের কর্মসূচি আগের দুই আন্দোলনের চেয়ে অনেক বড় এবং রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর দাবি, এবার সরাসরি হোয়াইট হাউজের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠানো হবে—শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করা যাবে না।
‘ওয়ার্কার্স অভার বিলিয়নেয়ার’ ব্যানারে আন্দোলন
এবারের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে ‘ওয়ার্কার্স অভার বিলিয়নেয়ার’ শীর্ষক ব্যানারের অধীনে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে তারা ধনী শ্রেণির স্বার্থ রক্ষাকারী নীতি প্রত্যাখ্যান করে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর তুলে ধরবেন।
অরাজক পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বড় শহরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতিও চলছে।
প্রধান প্রধান শহরে বিক্ষোভ
নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, বস্টন, ফিলাডেলফিয়া, শিকাগো, লস এঞ্জেলস, ডালাস, হিউস্টন, মায়ামি, আটলান্টা, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ডেট্রয়েট, ফিনিক্স, আলাবামা, আলাস্কা, ডেনভার, আইডাহো, ইন্ডিয়ানাপোলিস, মিনিয়াপোলিস, লাসভেগাস, বাল্টিমোর, কলম্বিয়া, মিলওয়াকি, নক্সভিল, ওরেগনসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গরাজ্যের শহরেই কর্মসূচি পালিত হবে।
লক্ষ্য নির্বাচনে প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ শুধু ট্রাম্পবিরোধী কর্মসূচি নয়; বরং এটি আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার একটি কৌশল। ডেমোক্র্যাটরা শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কৌশলগতভাবে সম্পৃক্ত হয়ে এ আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা নিতে চাইছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “শ্রমিক দিবসে এ ধরনের আন্দোলন রিপাবলিকানদের জন্য সতর্ক সংকেত। সাধারণ শ্রমিক ও অভিবাসীরা যদি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভোটভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।”



















