দেশের ব্যাংক খাতে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিন হাজার ৪৮৩ জন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির হাতে আটকে আছে ২৮ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। এদের অনেকেরই ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন টালবাহানায় ব্যাংকগুলোকে ফাঁকি দিচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫টি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি খেলাপি শনাক্ত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব, পুনঃতফসিলের সহজ নিয়ম এবং আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহারের কারণে ইচ্ছাকৃত খেলাপি সংস্কৃতি দিন দিন গভীর হচ্ছে। এর ফলে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট দেখা দিচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমানতকারী ও সৎ ঋণগ্রহীতারা।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের গবেষণা পরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের আলাদা করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। নেপালের মতো তাদের নাম প্রকাশ করে সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ করতে হবে।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও ঋণ উদ্ধারে প্রচেষ্টা চলছে। গত এক বছরে অগ্রণী ব্যাংক প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার কঠিন হবে। খেলাপি সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতির সার্বিক আস্থাই হুমকির মুখে পড়বে।



















