বাংলাদেশ সবসময় শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উদ্যোগের প্রতি গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ— এমন মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার কাতারের দোহায় শুরু হওয়া ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর শ্রমমন্ত্রীদের ৬ষ্ঠ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার শ্রম মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে বিষয়টি জানানো হয়।
ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ‘ওআইসি শ্রম কেন্দ্রের সংবিধি’-এ স্বাক্ষর করেছে, যা আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। ওআইসি সচিবালয় ও শ্রম কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা শ্রমবাজারের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে চাই।”
‘স্থানীয় অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক অর্জন : ইসলামী বিশ্বে সাফল্যের গল্প’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর শ্রমমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশেষজ্ঞ ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত আইএলও’র ৩৬টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। মৌলিক ১০টি কনভেনশনের মধ্যে ৮টি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, বাকি তিনটির (১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০) অনুস্বাক্ষর প্রক্রিয়া চলছে। এগুলো সম্পন্ন হলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই একমাত্র দেশ হবে, যেটি আইএলও’র সব মৌলিক কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করেছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সরকার বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা (এডিআর) চালু করছে, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে এবং অন্যায্য শ্রমচর্চার শাস্তি কঠোর করা হচ্ছে।
শিল্প খাতে অগ্রগতির কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, আইএলও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ কাজের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কর্মপরিবেশে বড় উন্নতি এসেছে। অনেক কারখানায় এখন ডে-কেয়ার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকার শিগগিরই শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধন করতে যাচ্ছে, যেখানে শ্রম সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত হবে।
ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাতীয় পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (NIOSH) কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি ইনস্টিটিউটটির সক্ষমতা উন্নয়নে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।


















