মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬ | ২৭শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও

ফিরে দেখা ৩৫ বছর আগের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেমন ছিল

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ১১, ২০২৬ ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ

প্রায় ৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে। সংখ্যার হিসাবে ফলাফল অনেকটাই জানা—জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। তারপরও বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে। এই প্রার্থিতা তাই শুধু ভোটের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। তাঁকে প্রার্থী করেছিল আওয়ামী লীগ। আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। সেই নির্বাচন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য, নিরপেক্ষতা এবং সরকার-বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করেছিল, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে আছে।

এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি। প্রতিবারই একক প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংসদকক্ষে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্বাচন কমিশন গেজেটের মাধ্যমে একক প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে।

এবারের পরিস্থিতি তাই ১৯৯১ সালের পর সংসদে ভোটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সংখ্যার হিসাবে বিএনপির প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালের রাজনীতির অনেক প্রশ্নই যেন আবার সামনে এসেছে।
স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনপদ্ধতিতে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনপদ্ধতি চালু করা হয়। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে দুবার সাধারণ ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটে ভোটার শুধু সংসদ সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদকক্ষে হবে ভোট। ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। এরপর যাচাই-বাছাই। ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপরও একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে ২০ আগস্ট।

বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। তবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) আলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্রও তোলা হয়েছে।

কেমন ছিল সর্বশেষ ভোট

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৪০টি পায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের চেয়ে ১১টি কম। আওয়ামী লীগ পায় ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন। এককভাবে সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির ছিল না। দলটি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই দলই এরশাদবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর তারা আবার সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকায় চলে যায়। একপর্যায়ে দুই দলের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আবার সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে। রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত করার বিধানও ফিরে আসে। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি প্রার্থী করে দলটির তখনকার স্পিকার আবদুর রহমান বিশ্বাসকে। তিনি ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সংসদ সদস্য হয়ে জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী এবং পরে বিচারপতি আবদুস সাত্তার সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বিএনপি নেতা।
বিএনপি যখন আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আওয়ামী লীগসহ কিছু বিরোধী দলের আপত্তি ছিল মূলত দুটি বিষয়ে। তারা তাঁর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার বিষয়টি সামনে আনে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় রাজনীতিকের বদলে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার দাবি জানায়।

বিএনপি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ব্যাপারে অনড় থাকায় আওয়ামী লীগ সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে। আওয়ামী লীগ জানত, সংসদে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বেশি। ফলে শুধু ভোটের অঙ্কে জয় পাওয়া কঠিন। কিন্তু বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ দুটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে পেরেছিল।

প্রথমত, রাষ্ট্রপতি পদে একজন দলীয় রাজনীতিকের পরিবর্তে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে চাওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিএনপির ভেতরে মুক্তিযুদ্ধপন্থী বা আবদুর রহমান বিশ্বাসকে প্রার্থী করার কারণে যেসব সংসদ সদস্যের আপত্তি থাকতে পারে, তাঁদের ভোট টানার একটি সুযোগ তৈরি করা।

আবদুর রহমান বিশ্বাসের জয়

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আয়োজন করা হয়। বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস পান ১৭২ ভোট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৬৬ ভোটের চেয়ে মাত্র ছয় ভোট বেশি। ওই সংসদে সংরক্ষিত আসনসহ বিএনপির মোট আসন ছিল ১৬৮টি। বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর পক্ষে ভোট পড়ে ৯২টি।

সংরক্ষিত নারীসহ সংসদে মোট ৩৩০ সদস্যের ভোটের ব্যবস্থা ছিল। সব মিলিয়ে ভোট পড়ে ২৬৪টি। অর্থাৎ ৬৬ জন ভোট দেননি। আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বিপুল রাজনৈতিক ঐকমত্য নিয়ে নয়।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার কারণে আবদুর রহমান বিশ্বাসের বিরোধিতা করলেও আওয়ামী লীগ জামায়াতের ভোট পেতে তৎপর ছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভোট চেয়েছিলেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয়। আবদুর রহমান বিশ্বাসও গোলাম আযমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক সংবাদ ৮ অক্টোবর ‘নিন্দনীয়’ শিরোনামে বিশেষ একটি লেখা প্রথম পাতায় ছেপেছিল।

অন্যদিকে জামায়াত সরকার গঠনে বিএনপিকে সহায়তা করলেও রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের সবাই আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, জামায়াতের সব ভোট পেলে আবদুর রহমান বিশ্বাস আরও বেশি ভোট পেতে পারতেন।

আলোচনা আছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের অনেক সংসদ সদস্য ভোট দেননি।

মজার বিষয় হচ্ছে—ওই সংসদে দুজন স্বতন্ত্র সদস্য ছিলেন। একজন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তাঁরা দুজনই বিএনপির রাষ্ট্রপতিকে ভোট দিয়েছিলেন।

প্রতিদ্বন্দ্বীহীন পরের সাত নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর সংসদ স্থায়ী ছিল ১১ দিন। ওই বছর জুনে অনুষ্ঠিত পরের নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয় বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে। বিরোধী দল কাউকে প্রার্থী করেনি। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে, সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ওই সংসদেই বিরোধী দলের সর্বাধিক সংসদ সদস্য ছিলেন। চাইলে বিএনপি প্রার্থী দিতে পারত। কিন্তু সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। এরপর প্রতিবারই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, বিরোধীরা অংশ নেয়নি।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। তিনি আট মাস দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয় দ্রুতই। এরপর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরপর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে বিএনপি। ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সংকটের সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বও নিজেই নিয়েছিলেন। একপর্যায়ে এক-এগারোর সরকার দায়িত্ব নেয়।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে জিল্লুর রহমানকে। তিনি ২০১৩ সালে মারা গেলে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. আবদুল হামিদ।

নিজের প্রথম মেয়াদ শেষ করার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। এরপর ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি স্বাভাবিক অবসরে যান। রাষ্ট্রপতি পদে এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি থাকতে পারেন না। আবদুল হামিদই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বাধিক সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি।
এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলছে।

রাষ্ট্রপতি বনাম প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ইতিহাসে সাকল্যে তিনবার সরাসরি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রথমবার ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল এম এ জি ওসমানী আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সমর্থন নিয়ে প্রায় ২২ শতাংশ ভোট পান।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ৬৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। আওয়ামী লীগের হয়ে ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৬ শতাংশ ভোট পান।

বিচারপতি সাত্তারকে সরিয়ে এইচ এম এরশাদ সামরিক শাসক হিসেবে আবির্ভূত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেন। ওই নির্বাচনে এরশাদ ৮৪ শতাংশ ভোট পান বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ (হাফেজ্জী হুজুর)। তিনি ৬ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পান।

অর্থাৎ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিরা নির্বাহী ক্ষমতাসহ সব ধরনের ক্ষমতা ভোগ করতেন। কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির পদ হয়ে যায় অনেকটা আলংকারিক। যদিও সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সংবিধান অনুসারে, জাতীয় সংসদের ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু একবার প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পরামর্শ নিয়ে চলতে হয়।

সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রধান। সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কও রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি দণ্ডিত ব্যক্তির দণ্ডাদেশ স্থগিত, হ্রাস বা দণ্ডিতকে ক্ষমা করতে পারেন।

প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। বছরের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণও দেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকারি নীতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সংসদে পাস হওয়া প্রতিটি বিল আইনে পরিণত হয় রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রদানের পর।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের সময় থেকে পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হলেও তাঁর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।

সর্বশেষ - জাতীয়