মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬ | ২৭শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও

সুনামগঞ্জে এমপির গলায় রামদা ধরে দলিলে সই নেন সৎভাইয়েরা—অভিযোগে স্ত্রীর মামলা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ১১, ২০২৬ ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরীর পাল্টপাল্টি সমাবেশের পর আদালতে একটি মামলা হয়েছে। নাছির চৌধুরীর স্ত্রী পারভীন আকতার মামলাটি করেছেন।

মামলায় পারভীন আকতার অভিযোগ করেছেন, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর (৭৫) গলায় রামদা ধরে হুমকি দিয়ে তিন সৎভাই তাঁর বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের দলিলে সই নিয়েছেন। তাঁর স্বামী তখন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ও মানসিকভাবে অবুঝ ছিলেন।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (দিরাই আমলি আদালত) নাছির চৌধুরীর তিন ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার মামলার আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

নাছির চৌধুরীর তিন সৎভাই হলেন দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক), মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোহলেহ উদ্দিন চৌধুরী।

মামলা ও আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহিত লাল চন্দ।

মামলার আরজিতে পারভীন আকতার উল্লেখ করেছেন, নাছির চৌধুরী তখন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে সৎভাইয়েরা বঞ্চিত হবেন ভেবে এই সম্পদ নিজেদের নামে দলিল করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। নাছির চৌধুরীর সম্পত্তি থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বঞ্চিত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তিনি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা থেকে অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে দেখতে তাঁর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। এরপর তিনি অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে সেখানে তাঁর প্রথম স্ত্রী নিঃসন্তান শেলী চৌধুরী ও বোন শামীমা চৌধুরীর কাছে রেখে যান। এই দুজনও তখন অসুস্থ ছিলেন।

এরপর আসামিরা ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা সাজিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাঁরা অসুস্থ ও মানসিকভাবে অবুঝ নাছির চৌধুরীকে দলিলে সই করতে বললে তিনি অসম্মতি জানান। পরে তাঁরা নাছির চৌধুরীর গলায় রামদা ধরে সই না করলে গলা কেটে হত্যার ভয় দেখান। এ সময় স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে আাসমিরা তাঁকেও হত্যার হুমকি দেন। পরে তিনি দলিলে সই করেন।

মামলার আরজিতে পারভীন আকতার দাবি করেন, পরে তিনি এসে পুলিশের সহায়তায় নাছির চৌধুরীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি জোর করে দলিলে সই নেওয়ার বিষয়টি তাঁকে জানান। বিষয়টি নিয়ে পরে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলে আসামিরা ক্ষমা চান এবং দ্রুত দলিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনো উদ্যোগ নেননি। ঘটনার পরে শেলী চৌধুরী ও শামীমা চৌধুরী দুজনই মারা গেছেন।

এ প্রসঙ্গে মামলার আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পারিবারিকভাবে তাঁদের কিছু ঝামেলা আছে। মামলার বিষয়টি তিনি জানেন না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেবেন।

নাছির চৌধুরী সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত নির্বাচনের পর তাঁর ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ৬ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে দিরাই শহরে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশ নাছির চৌধুরী বলেছেন, তাঁর কোনো ভাই নেই। তিনি একা।

এর এক দিন পর মঈন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে দিরাইয়ে আরেকটি সমাবেশ হয়। এতে মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সংসদ সদস্যকে একটি লুটেরা সিন্ডিকেট ঘিরে রেখেছে। তাঁরা এদের কবল থেকে নাছির চৌধুরীকে মুক্ত করতে চান।

সর্বশেষ - জাতীয়

মালয়েশিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের নগদ অর্থ সহায়তার ঘোষণা

শান্তি ও সহনশীলতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান ড. মঈন খানের

খালেদা জিয়ার জন্য প্রস্তুত সমাধিস্থল পরিদর্শন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১, ১৫ শিশুসহ নিখোঁজ বহু

টানা চতুর্থ দিনের মতো বন্ধ জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ভোগান্তিতে রোগীরা

ফের ইসির সামনে অবস্থান ছাত্রদলের

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যাকাণ্ড: ডিএমপি’র দাবি, চোরাই তারের ব্যবসা নিয়েই খুন

টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি

আটক হওয়ার দুই ঘণ্টা পর মুক্ত রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

সাত কলেজ নিয়ে রোডম্যাপ না এলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি