বৃহস্পতিবার , ২৬ জুন ২০২৫ | ৪ঠা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. বানিজ্য/অর্থনীতি
  2. ভিডিও

দেশের অর্থনীতিতে এখনো স্বস্তি ফেরেনি

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ২৬, ২০২৫ ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল, একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি সেই শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে। তবে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং জ্বালানির মূল্য নিয়ে এখনো বিদ্যমান রয়েছে যথেষ্ট উদ্বেগ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে, এর কার্যকারিতা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইরান ও ইসরায়েল উভয় দেশ যদি প্রকৃত অর্থেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে, তবেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর প্রেসিডেন্ট এবং বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পরপরই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে, দেশের অর্থনীতিতে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা স্বস্তিতে রূপান্তর হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েলের হামলা-পাল্টা হামলা শুরুর পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ত, কারণ বাংলাদেশের তেল ও গ্যাসের সিংহভাগ এই পথ দিয়েই আসে। বর্তমান যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় আপাতদৃষ্টিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, যা বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

চলতি জুনের প্রথম সপ্তাহে ঘোষিত বাজেটে আগামী অর্থবছরের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বহিরাগত চাপ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে এই চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশকে আগামী অর্থবছরেও সতর্ক থাকতে হবে। এমন প্রেক্ষাপটে জুনের মাঝামাঝি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দেশের অর্থনীতিতে এই বহিরাগত চাপকে আরও তীব্র করে তোলে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সামগ্রিকভাবে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর তাৎক্ষণিক প্রভাব হতে পারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং এর ফলস্বরূপ মুদ্রাস্ফীতির চাপ। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি পণ্য এই করিডর দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুতগতিতে বেড়ে যাবে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, কৃষি এবং ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে। একই সাথে, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং টাকার মান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ জোর দিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রধান উদ্বেগ ছিল হরমুজ প্রণালি নিয়েই। এই করিডরটি বন্ধ হলে কেবল জ্বালানির দামই বাড়ত না, আমদানিও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত, যা শিল্প-কারখানায় উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করত।

বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কিছুটা উদ্বেগ প্রশমিত করলেও, অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান। প্রকৃত অর্থেই যুযুধান এই দুই দেশ যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে, তবেই দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির পরিবেশ ফিরে আসবে।

সর্বশেষ - জাতীয়