রাজধানীর বিজয়নগরে গতকাল জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অনেকে আহত হন। নুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাতে তাঁকে দেখতে সেখানে যান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও উপদেষ্টারা। এ সময় নুরের গুরুতর অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, তাঁর মাথা ফেটে গেছে, চোখ ও নাকে আঘাত রয়েছে এবং তাঁকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গণঅধিকার পরিষদ অভিযোগ করে বলেছে, পুলিশ ও সেনাসদস্যরা তাদের কার্যালয়ে প্রবেশ করে লাঠিচার্জ করেছে, যা অতীতে কখনো ঘটেনি। দলটির দাবি, এ হামলার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে এবং দায়ীদের শাস্তি চাইবে তারা।
অন্যদিকে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রথমে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ বাড়লে সেনাবাহিনী সহযোগিতায় নামে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে বলপ্রয়োগ করা হয়, এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যও আহত হয়েছেন।
এ হামলার প্রতিবাদে রাতেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গণঅধিকার পরিষদ ও বিভিন্ন সংগঠন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও বিক্ষোভ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় গণঅধিকার পরিষদের মিছিল কাকরাইলের দিকে যাওয়ার সময় জাপা কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।



















