বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে বিসর্জন হোক অন্যায়, হিংসা ও বৈষম্যের

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুরের পরাজয় অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের বিজয়ের প্রতীক। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আরতি ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটছে বিজয়া দশমীতে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর এই দিনে আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মনে রয়েছে বিষাদের ছোঁয়া।

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে কৈলাসে ফিরে যান তিনি। বিদায়ের এই মুহূর্তে ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ‘আসছে বছর আবার হবে’—যা আগামী দুর্গোৎসবের প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে।

তবে ধর্মীয় আচার ও উৎসবের আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও বিজয়া দশমী মানুষের সামনে আত্মপর্যালোচনা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে। পুরাণে দেবী দুর্গার আবির্ভাব অন্যায় ও অত্যাচারী শক্তির বিনাশের প্রতীক হলেও বাস্তব সমাজে দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো সমস্যাগুলো এখনো বিদ্যমান।

মণ্ডপে অসুরবধের দৃশ্য দেখে আমরা অন্যায়ের পরাজয়ে আনন্দিত হই। কিন্তু বাস্তব জীবনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার হতে পারছি, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। দুর্বল ও অসহায় মানুষের অধিকার রক্ষা, নির্যাতিতের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই বিজয়ার প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব।

দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নারীর মর্যাদা ও শক্তির স্বীকৃতি। দেবী দুর্গাকে দশভুজা ও শক্তির প্রতীক হিসেবে পূজা করা হলেও সমাজে নারীরা এখনো নানা ধরনের নির্যাতন, অসম্মান ও বৈষম্যের শিকার হন। নারীর স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা, মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়েই দেবীবন্দনার তাৎপর্য পূর্ণতা পেতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন রক্ষাও বিজয়া দশমীর অন্যতম শিক্ষা। দুর্গোৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। তবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শুধু উৎসবের কয়েক দিনের শুভেচ্ছা বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের সময় নদী ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও নাগরিক দায়িত্বের অংশ। ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ উৎসবের সামগ্রিক তাৎপর্যকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যবাসের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু সমাজ থেকে অন্যায়, হিংসা, বৈষম্য ও বিদ্বেষ দূর করার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। তাই বিজয়া দশমীতে দেবীকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ন্যায়, মানবিকতা, সাম্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারই হয়ে উঠুক সবচেয়ে বড় প্রত্যয়।

প্রতিমা বিসর্জন হোক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ, কিন্তু বিসর্জন যেন না যায় মানুষের প্রতি ভালোবাসা, নারীর মর্যাদা, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নের। বিজয়া দশমীর প্রকৃত সার্থকতা সেখানেই।

সর্বশেষ - শিক্ষা

ডাকসু নির্বাচনে ফরম তুলতে ছাত্রদল নেত্রীকে বাধার অভিযোগ

সাইবার হামলার শিকার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সেপাহ ব্যাংক

বিচ্ছেদ গুজব উড়িয়ে দিলেন বারাক ও মিশেল ওবামা

পর্বত আরোহণের সময় উদ্ধার হলো ৪ কোটি টাকা মূল্যের শতাব্দী প্রাচীন সোনার গুপ্তধন

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাতিসংঘের পূর্ণ সমর্থন

বান্দরবানে ভূমিকম্প অনুভূত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চে

সিলেটে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভা শুরু, প্রধান অতিথি তারেক রহমান

শাহজালাল বিমানবন্দরে বোমার হুমকি, কাঠমান্ডুগামী বিমানের ফ্লাইট বাতিল

‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বর্তমান সরকারের আমলেই সম্পন্ন হবে’ – আইন উপদেষ্টা