শনিবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

ভিকারুননিসায় এইচএসসির ফলে ধস, জিপিএ-৫ কমেছে ৫৭ শতাংশ

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ৫৭ শতাংশের বেশি। নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি, পড়াশোনায় অনাগ্রহ, বিজ্ঞান বিভাগের দুর্বলতা এবং প্রতিষ্ঠানের কিছু সীমাবদ্ধতাকে ফলাফলের অবনতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ হাজার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ হাজার ৩৭৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ২৩৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৩৯ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন ২ হাজার ৪৩৪ জন। সে বছর পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯৮৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছিলেন ৮০ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশীয় পয়েন্ট। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৭০ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। অর্থাৎ, এবার গত বছরের অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতিকে বড় কারণ বলছেন অধ্যক্ষ

ফলাফলের অবনতি প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, করোনা মহামারির পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসার প্রবণতা কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের পড়াশোনার অভ্যাস ও পরীক্ষার ফলাফলে।

তাঁর মতে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সরাসরি পাঠদান, সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাড়িতে একা পড়াশোনা করে শ্রেণিকক্ষের এসব অভিজ্ঞতার পূর্ণ বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়।

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোথাও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে, আবার কোথাও পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে না যাওয়ার কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি অন্যের ওপর দায় চাপাতে চাই না। বরং নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমাদের যেসব দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়নের চেষ্টা করতে হবে।’

নিজেদের শিক্ষার্থীদের ভর্তি নীতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে

ফলাফলের অবনতির পেছনে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতির বিষয়টিও তুলে ধরেন অধ্যক্ষ। তিনি জানান, অনেক কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জিপিএ অর্জনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভিকারুননিসায় নিজেদের স্কুল থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজ পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক নমনীয়তা দেখানো হয়।

এ কারণে জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও ভর্তির সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শুধু জিপিএ ৪ দশমিক ৫ না থাকায় কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করতে চান না তাঁরা।

মাজেদা বেগমের ভাষ্য, নিজেদের শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার এই নীতির কারণে তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীরাও কলেজে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর একাডেমিক ঘাটতি পূরণ করে প্রত্যাশিত ফল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে ফলাফলের কথা বিবেচনা করে নিজেদের শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে বাধ্য করতে চান না তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা

অধ্যক্ষ জানান, সব শিক্ষার্থীর খারাপ ফলের কারণ এক নয়। কারও ক্লাসে উপস্থিতি কম, কেউ নির্দিষ্ট বিষয়ে দুর্বল, আবার কারও পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে। তাই সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আলাদা পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক ঘাটতি ও অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা ফল খারাপ করেছে, তাদের দুর্বলতার কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে আসতে চান অধ্যক্ষ

শিক্ষার মান উন্নয়নে শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার পরিবর্তে বিষয়বস্তু বোঝার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে চান অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।

তাঁর মতে, প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে সাময়িকভাবে ভালো ফল করানো সম্ভব হলেও এতে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত হয় না। কোনো বিষয় ভালোভাবে বুঝতে পারলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে পারবে। এ জন্য পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটানোই প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ১২ লাখের বেশি

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন ছাত্রী।

সারা দেশে ২ হাজার ৬৯১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২ জুলাই শুরু হওয়া পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর ওই বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হয়।

সর্বশেষ - শিক্ষা

তিন মাস ধরে নিখোঁজ কাকা, সন্ধান চেয়ে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

অসন্তোষজনক জবাবে বিএনপি উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের পদ স্থগিত

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের বিকল্প নেই: তারেক রহমান

‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

গাজায় জাতিসংঘের অর্ধেক ত্রাণ মিশন বাধাগ্রস্ত

প্রতিরক্ষা ভেদ করে ইরানের ড্রোন হামলায় ‘বিস্মিত’ ইসরায়েল

ফরিদপুরে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে প্রাণ গেল ৩ বন্ধুর

ছয় দফা দাবিতে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল

থানায় জিডি করলেন ভোক্তা অধিকারের আলোচিত কর্মকর্তা জব্বার মন্ডল

রণবীর কাপুরকে ‘প্রথম স্বামী’ বললেন অভিনেত্রী ঋদ্ধিমা ঘোষ