ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার কোনো প্রভাব রাখা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে পেশাগত শৃঙ্খলা, আইন মেনে চলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নবীন পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএস পুলিশ ও আনসার ক্যাডারে নবযোগদান করা কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুপিরিয়র সার্ভিসে তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা এবং দেশের সব কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন, সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে তাঁদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, চাকরিজীবনে সব সময় শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ ও আনসার ক্যাডার অন্যান্য সার্ভিসের তুলনায় আলাদা। এসব বাহিনীকে অত্যন্ত সংঘাতময় ও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ জন্য বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনার সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি।
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইজিপি (ইনচার্জ) ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
উল্লেখ্য, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে ৮০ জন এবং আনসার ক্যাডারে ২৫ জন কর্মকর্তা সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ ক্যাডারের ৬৫ জন এবং আনসার ক্যাডারের ১৯ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন।

















