আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (২ নভেম্বর) নতুন এ দাম ঘোষণা করা হয়, যা আজ রাত ৮টা থেকে কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্য (সৌদি সিপি) বৃদ্ধির কারণে এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসির নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির প্রতি কেজির দাম ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। সে হিসাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সৌদি সিপি বৃদ্ধির কারণে গত মাসের তুলনায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ প্রায় ৭৪ টাকা বেড়েছে।
নভেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রোপেনের দাম প্রতি টন ৭২০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৭৮০ ডলার নির্ধারণ করেছে। প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে প্রতি টন ৭৫৯ ডলার। এর সঙ্গে এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম প্রতি টন ২৫০ ডলার এবং ডলারের বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ৪৬ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি এলপিজির দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এলপি গ্যাস পিএলসি সরবরাহ করা ১২ দশমিক ৫০ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৬০ টাকা।
এ ছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির তরল অবস্থায় প্রতি কেজির দাম মূসকসহ ১৬৫ টাকা ৮৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি লিটারের দাম ৩৬ পয়সা ৮৫ পয়সা এবং প্রতি ঘনমিটারের দাম ৩৬৮ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে।
এলপিজি বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিশনও বাড়ানো হয়েছে। আমদানিকারকদের মজুদকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, অর্থাৎ অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসের শেষ দিকে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পর আমদানিকারকেরা সরবরাহ কমিয়ে দিলে বাজারে সংকট তৈরি হয়। সে সময় বিইআরসি নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কোথাও কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
এর আগে অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।
















