বুধবার , ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. বানিজ্য/অর্থনীতি
  2. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

চীনের সঙ্গে অর্থায়ন কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে চায় বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১২:৪১ অপরাহ্ণ

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান ঋণভিত্তিক অর্থায়নের পরিবর্তে অংশীদারত্বমূলক বিনিয়োগের দিকে এগোনোর বিষয়ে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থায়নের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সার্বভৌম ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ওপর যে নির্ভরতা রয়েছে, তা কমিয়ে ইকুইটি বা মালিকানাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্ব জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঋণ থেকে সরে এসে ধীরে ধীরে বিনিয়োগের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছি।

সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, শুধু ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে এমন অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের অংশীদার হবে। এতে ভবিষ্যতে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

তবে কোন প্রকল্পে এ ধরনের বিনিয়োগ হবে, অর্থায়নের অনুপাত কী হবে কিংবা নতুন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্থিক সহায়তা ও অনুদান প্রত্যাশা

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অনুদানভিত্তিক আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। দেশটি থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা একমত হয়েছে।

তবে কী পরিমাণ অর্থ বা কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি অর্থমন্ত্রী।

কৃষি খাতে সহায়তা নিয়ে ইফাদের সঙ্গে আলোচনা

অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, নির্দিষ্ট প্রকল্প বা অর্থায়নের ধরন সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সর্বশেষ - শিক্ষা