ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করল যুক্তরাজ্য, বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে এবং একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইসরায়েল নতুন করে হামলা বন্ধ ও ত্রাণ যেতে না দিলে ‘পদক্ষেপ’ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার হুমকির পরই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।
গত ৫ মে থেকে গাজায় নতুন করে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। সোমবার (১৯ মে, ২০২৫) দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তার সরকার ‘পুরো গাজার নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। দীর্ঘ ১১ সপ্তাহ অবরোধের পর সেদিনই উপত্যকাটিতে মাত্র পাঁচটি ট্রাকে ত্রাণ ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। তবে গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে প্রতিদিন ৫০০ ট্রাক ত্রাণ প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২০ মে, ২০২৫) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর যুক্তরাজ্যের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন দিয়েছে। তবে এই সংঘাত এখন এক ‘কালো অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে’। ১১ সপ্তাহ ধরে গাজা অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী, যার ফলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) হাতে খাবারের মজুত শেষ হয়ে গেছে।
ডেভিড ল্যামি যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের আরও জানান, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনজন ব্যক্তি ও চারটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, যারা নৃশংসভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে, ব্রিটিশ সরকার তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে থাকবে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার (২০ মে, ২০২৫) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় ইসরায়েলের হামলা, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বৃদ্ধি এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনার জেরে যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলের দূত জিপুরা হোতোভেলিকে তলব করেছে ব্রিটিশ সরকার।
এদিকে, বসতি স্থাপনকারীদের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিভ্রান্তিকর, অযৌক্তিক ও দুঃখজনক’ বলেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল নিজেদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার জন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাইরের চাপের কারণে এই সংগ্রাম থেকে সরে আসবে না। বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করা নিয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্য করেছে, “ইসরায়েলবিরোধী আবেগ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে যুক্তরাজ্য যদি নিজেদের অর্থনীতির ক্ষতি করতে চায়, তাহলে সেটি তাদের সিদ্ধান্ত।”


















