শুক্রবার , ১৩ জুন ২০২৫ | ৪ঠা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও

দেশজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, মৃত্যুহার বৃদ্ধির শঙ্কা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১৩, ২০২৫ ৪:০২ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীসহ সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ বছর ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তারের পাশাপাশি মৃত্যুহার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ঈদুল আজহার ছুটির আগের দুই সপ্তাহ ধরে চলা এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার প্রতি ১৫টি বাড়ির মধ্যে সাত থেকে আটটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা রয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪০১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে এবং এর মধ্যে মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ, বর্তমানে ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে।

এডিস মশার বিস্তার আগে শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন তা গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর চিকিৎসা সাধারণত ঢাকাকেন্দ্রিক ও বিভাগীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সরকারের উচিত সব পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। আইসিইউ সাপোর্ট বিভাগীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় জটিল রোগীদের ঢাকায় আনতে আনতে তাদের মৃত্যু হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও পরামর্শ

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, “ডেঙ্গু মশা নিধনের দায়িত্ব প্রশাসনের। প্রশাসন ব্যর্থ হলে এডিস মশার প্রকোপ বাড়বে, মানুষ আক্রান্ত হবে এবং মৃত্যুর হার বেশি হবে। এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এখন ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে। বাসাবাড়ির মালিকদের দায়িত্ব আছে নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে। শুধু সরকারের দিকে চেয়ে থাকা উচিত হবে না। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দেশে ডেঙ্গু ভয়াবহ মৃত্যু ডেকে আনবে।” ডেঙ্গুর উপসর্গ হিসেবে তিনি প্রচণ্ড জ্বর, গিরায় গিরায় ব্যথা, ব্যাকপেইন, প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ফুল হাতা শার্ট-প্যান্ট পরার পরামর্শও দেন তিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন না করারও সতর্ক করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, “রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সরকারের প্রশাসন আছে। এই চেইন যদি মশা নিধনে কাজ করে এবং মানুষ নিজেরাও সচেতন হয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, তাহলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।” তিনি ডেঙ্গু রোগীদের ঢাকামুখী হওয়া ঠেকাতে বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, যাতে জটিল রোগীদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন না হয়।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এর কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার বলেন, “মশার চরিত্র ও আচরণ অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এটার কামড়ানোর ধরনও পরিবর্তন হয়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, ৫০ ভাগ আবর্জনা এবং ৫০ ভাগ বাসাবাড়ির স্বচ্ছ পানিতে এই মশার উৎপত্তি হয়। কীটনাশক ব্যবহার করে এটি সাধারণত মারা যায় না। এটা নিধন করতে হলে ওষুধও পরিবর্তন করতে হবে।”

শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, “এবার ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশ। করোনার চেয়ে ডেঙ্গু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু কর্নার প্রস্তুত করছে। তবে রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল পরিচালক বলছেন, করোনা ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মহাখালীতে ১ হাজার বেডের ডেডিকেটেড হাসপাতাল রয়েছে এবং প্রথম ধাপে সেখানে রোগীদের ভর্তি করার পরামর্শ দেন। সেখানে সামাল দিতে না পারলে রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা যেতে পারে।

বরিশাল ও সিলেটের পরিস্থিতি

বরিশাল অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের দুটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ছয়টি সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২২ জন ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিরোজপুরের নেছারাবাদ এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মারা গেছেন। বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চাঁন মিয়া ও গোশাই দাসের মৃত্যু হয়েছে।

সিলেট অফিস জানিয়েছে, সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির সংবাদে সিলেট অঞ্চলে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ওসমানী বিমানবন্দর, সিলেটের তামাবিলসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন সেন্টারে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০৮ জন, বেশি বরগুনায়:

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০৮ জন। এ সময়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১০৮ রোগীর মধ্যে ৭৯ জনই বরগুনা জেলার

সর্বশেষ - জাতীয়