শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেয়েছেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুর রহিম, এমফিল, পিএইচডি, এইসিকে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুর রহিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় এবং স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শহীদ শামসুজ্জোহা স্বর্ণপদক লাভ করেন।
উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে CAS-TWAS President’s Fellowship Award-এর আওতায় চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC) থেকে ২০২৪ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তাঁর ১১টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
২০০৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভের পর তিনি শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘ডিস্টিংগুইশড ইনস্ট্রাক্টর’ সম্মাননা অর্জন করেন।
২০২৫ সালে রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন তিনি। শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে তাঁর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় রামু গ্রন্থমেলা। পাশাপাশি প্রায় আট হাজার বই নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় একটি আধুনিক গ্রন্থাগার।
তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, খেলাধুলা, স্কাউট ও বিতর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এ রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়। একই আয়োজনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুর রহিম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের স্বীকৃতিও অর্জন করেন।
শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা অর্জনকে তাঁর কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


















