বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর বাড্ডায় রিকশাচালক হাফিজুল শিকদার হত্যা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক রিদুয়ানুল হক তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার দীপু মনিকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপু মনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে তার জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার কারাগারে আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদে দীপু মনি এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডার প্রগতি সরণি এলাকায় যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন অটোরিকশাচালক হাফিজুল শিকদার (২৮)। এ সময় আন্দোলন দমনে আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুলিটি তার বাম পাঁজর দিয়ে ঢুকে ডান বগল দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে এজাহারে বলা হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ২১ আগস্ট হাফিজুলের বাবা মো. আবুবকর শিকদার বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।

















