আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবার দুর্গাপূজার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জলজ : জীবন-সৃষ্টি, পরম শক্তির মহাজাগতিক বন্দনা’। জীবন, সৃষ্টি ও প্রকৃতির সঙ্গে জলের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরতেই এ থিম বেছে নিয়েছেন আয়োজকেরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের অন্যতম প্রধান শর্ত জল। আধুনিক বিজ্ঞান থেকে শুরু করে প্রাচীন বৈদিক দর্শন—উভয় ক্ষেত্রেই সৃষ্টির সঙ্গে জলের গভীর সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। সেই ধারণাকে কেন্দ্র করে জলজ জীববৈচিত্র্য, বাংলার নদীনির্ভর জীবনধারা এবং জল সংরক্ষণের গুরুত্ব এবারের পূজামণ্ডপের সাজসজ্জায় তুলে ধরা হবে।
আয়োজকদের মতে, সনাতন ধর্মে জল কেবল প্রাকৃতিক উপাদান নয়; এটি পবিত্রতা, আধ্যাত্মিকতা ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক। মানুষের জন্ম থেকে জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে জলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই ভাবনাকে ধারণ করেই ‘জলজ’ থিমের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মণ্ডপসজ্জায় বাঁশ, বেত, প্রাকৃতিক তন্তু ও চটের মতো পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢেউয়ের আদলে তৈরি বহুস্তরীয় কাঠামো, জলপ্রপাতের দৃশ্য, প্রতিফলন পুকুর ও নান্দনিক আলোকসজ্জার সমন্বয়ে সাজানো হবে পুরো মণ্ডপ। প্রবেশপথ থেকে মণ্ডপের ভেতর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের চলাচলের পথ এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃতির গতিশীলতা ও প্রশান্তির এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
আয়োজকেরা জানান, ‘জলজ’ থিমের আবেদন শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল ও জলদূষণের কারণে বিশ্বজুড়ে পানিসম্পদ ও প্রাকৃতিক জলচক্র হুমকির মুখে পড়ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য এ সংকট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁদের মতে, জলকে সম্মান করা ও সংরক্ষণ করা মানে জীবন, ইতিহাস, প্রকৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা। তাই ‘জলজ’ থিমের মাধ্যমে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে আয়োজিত এ শারদোৎসব সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পূজামণ্ডপের পরিকল্পনা, নকশা ও তত্ত্বাবধান করছেন স্থপতি অমিতি কুন্ডু এবং শিল্পী-গবেষক পার্থপ্রতিম সাহা।


















