বুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২০শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে সরকার: জি এম কাদের

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৪:২৭ অপরাহ্ণ

পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলন দমনে সরকার মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়ে সরকার দমন-পীড়নের আশ্রয় নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান জি এম কাদের। আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদও জানান তিনি।

 

জি এম কাদের বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে পোশাকশিল্প বা গার্মেন্টস খাত থেকে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান বাজারদরের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা ব্যয় ও রান্নার জ্বালানির খরচ বর্তমান বেতন কাঠামোতে শ্রমিকদের পক্ষে মেটানো শুধু কষ্টসাধ্য নয়, অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

গার্মেন্টস খাতে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিক এমন বাস্তবতায় জীবনধারণের ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহ করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এ কারণে শ্রমিকেরা বেশ কিছুদিন ধরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

জি এম কাদের বলেন, আন্দোলন বন্ধ করার উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকসহ আশপাশে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

 

গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে জি এম কাদের দাবি করেন, গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আহত তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। নিহতের পরিবারকে ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান।

 

পোশাক কারখানার পরিস্থিতি তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় কারখানাগুলোতে সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি এবং বন্দরগুলোর বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে মালিকেরা বিপর্যস্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

জি এম কাদের বলেন, এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বাড়তি বেতনের দায়ভার নিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা দুঃসাধ্য হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব তৈরি হচ্ছে এবং ভোগ্যপণ্যের বাজার সীমিত হয়ে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের দাবিই ন্যায্য বলে মন্তব্য করেন জি এম কাদের। ন্যায়সংগত সমাধানের জন্য শ্রমিকদের মজুরি বাস্তবায়নে সরকারকে ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।

 

নগদ অর্থসহায়তা অথবা রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহের প্রস্তাব দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি গ্যাস মালিকদের মাধ্যমে অথবা সরাসরি শ্রমিকদের সরবরাহ করা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

সর্বশেষ - শিক্ষা