বুধবার , ৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. বানিজ্য/অর্থনীতি
  2. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

ইচ্ছেমতো রাখা হচ্ছে এলপিজির দাম, অসহায় ক্রেতারা

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সরকার নির্ধারিত দামে যশোরে মিলছে না ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার। শহরের বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার। কোথাও আবার নির্দিষ্ট কোম্পানির খালি সিলিন্ডার না থাকলে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারি দাম নির্ধারণের পরও তারা সেই দামে গ্যাস পাচ্ছেন না। দোকানভেদে ইচ্ছেমতো বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের।

যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ জানান, দুই দিন ধরে তিনি এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না। পরে গ্যাস পেলেও নির্ধারিত দামে নয়, ২ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে তাকে।

একই অভিযোগ রায়পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মানিক হোসেনের। তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৫০ টাকায় কিনেছেন। তার অভিযোগ, দোকানভেদে একই সিলিন্ডারের দামে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যমুনা, সেনা, পেট্রোম্যাক্স, ওমেরা, সান, টোটাল ও ডেল্টাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপিজি সিলিন্ডার ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ঘোপ বউবাজারের স্বপ্না স্টোর, উপশহরের মেসার্স দীঘি এন্টারপ্রাইজ ও জেলরোডের মনি এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। এর আগেও ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এবার সরকারি দাম বাড়ানোর পর সেই সুযোগে আরও বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

ক্রেতারা বলছেন, শুধু খুচরা বাজার নয়, পাইকারি পর্যায়েও মূল্য নির্ধারণ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাড়তি দামের দায় ডিলারদের ওপর

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলার পয়েন্ট থেকেই তাদের ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮২০ থেকে ১ হাজার ৮৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় বিক্রি করে লাভ করা সম্ভব নয়। এ কারণে বাড়তি দামে বিক্রির দায় তারা ডিলারদের ওপর দিচ্ছেন।

অনেক খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্যাশমেমো না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কেউ কেউ বাড়িতে মোটরসাইকেলে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।

তবে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পালবাড়ি এলাকার সোনালী ট্রেডিংয়ের ডিলার পয়েন্টের মালিক ফসিয়ার রহমান। তিনি জানান, তার ডিলার পয়েন্ট থেকে যমুনা, বসুন্ধরা (বিএম) ও টোটালসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১২ কেজির সিলিন্ডার পাইকারি পর্যায়ে ১ হাজার ৭৮০ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

ঢাকা রোড এলাকার আকাশ ট্রেডিংয়ের মালিক মহিবুর রশিদ আকাশও জানান, তার ডিপো থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাইকারি পর্যায়ে ১ হাজার ৭৭০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিউমার্কেট এলাকার ফিরোজ এন্টারপ্রাইজেও প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, বাজার তদারকিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে মূল্য তালিকা না থাকায় একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোথাও বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি হলে ভোক্তাদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

পাইকারি পর্যায়ে বিক্রির দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের বড় ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, একই সিলিন্ডার খুচরা বাজার থেকে কিনতে ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

সর্বশেষ - শিক্ষা