বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা, বিষাদে বিদায় মা দুর্গার

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গাকে কৈলাসে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিজয়ের আনন্দ আর বিদায়ের বিষাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিনটি উদ্‌যাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে দর্পণ বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করেন নারীরা। পরে তাঁরা একে অপরের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। এ সময় পরিবার-পরিজনসহ দেশের প্রতিটি মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন তাঁরা।

ভক্তরা জানান, মহিষাসুরকে পরাজিত করে দেবী দুর্গার বিজয়ের আনন্দ যেমন তাঁদের উচ্ছ্বসিত করে, তেমনি মায়ের বিদায়ের মুহূর্তে মন ভারী হয়ে ওঠে। তবে আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গা ফিরে আসবেন—এই বিশ্বাস ও প্রত্যাশা তাঁদের মনে সান্ত্বনা জোগায়। বিজয়ের আনন্দ আর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে তাঁরা উদ্‌যাপন করছেন বিজয়া দশমী।

শহরের দাসপাড়া, রাম ঠাকুর ক্লাব, গগন সাহারবাড়ী রোড সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, পুষ্পাঞ্জলি সংসদ, টাউন সর্বজনীন পূজা কমিটি ও ঐক্যতান যুব সংঘের পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন নারীরা।

গগন সাহারবাড়ী রোড সার্বজনীন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়া সাথী বণিক বলেন, ‘মাকে প্রণাম জানিয়ে প্রার্থনা করেছি, মা যেন আগামী বছর আবারও সুখ-শান্তির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। পাশাপাশি আমাদের পরিবার ও দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে, সেই প্রার্থনাও করেছি।’

দীপ্তি সাহা বলেন, ‘মা প্রতিবছরই ভক্তদের জন্য আশীর্বাদ নিয়ে আসেন। এবারও তিনি ভক্তদের আশীর্বাদ করে গেছেন। মায়ের বিদায়ের সময় বুকফাটা কান্না এসেছে। তবে এই ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছি, মা তো আগামী বছর আবারও আমাদের মাঝে আসবেন।’

মায়ের আশীর্বাদ নিতে আসা সুবর্ণা ভৌমিক বলেন, ‘মা সর্বত্রই বিরাজমান। আমাদের সুখে-দুঃখে মা সব সময় পাশে থাকেন। তারপরও বিশেষ দিন বিজয়া দশমীতে মা প্রতিবছর আমাদের আশীর্বাদ করে যান। আমি প্রার্থনা করি, মা যেন স্বামী-সংসার নিয়ে আমাকে সারা বছর ভালো রাখেন।’

শহরের গগন সাহারবাড়ী পূজামণ্ডপের পুরোহিত রতন চক্রবর্তী বলেন, ‘দেবী দুর্গা অশুভ শক্তি অসুরকে পরাজিত করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি ভক্তের মধ্যে বিজয়ের আনন্দ বিরাজ করছে। অন্যদিকে মায়ের বিদায়ের সময় প্রতিটি ভক্তের মনে বিষাদের বেদনা তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, বুধবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। তবে স্থানভেদে দেশাচার ও চিরায়ত রীতি অনুযায়ী দশমীর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন ভক্তরা। এর মধ্য দিয়ে ভক্তদের আশীর্বাদ করে দেবী দুর্গা কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে গেছেন বলে বিশ্বাস করেন তাঁরা।

রতন চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘এখন অপেক্ষা আবারও এক বছরের। মা দুর্গা সুখ-শান্তির বার্তা নিয়ে ফিরে আসবেন ভক্তদের মাঝে। এ বছর মা ঘোটকে আগমন করেছিলেন, আর বিদায় নিয়েছেন নৌকায়। এর মধ্য দিয়ে ভক্তদের জন্য রেখে গেছেন একরাশ আশীর্বাদ।’

সর্বশেষ - শিক্ষা