জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনাই কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকাকালে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা এ ধরনের রাজনীতি করিনি। ঢাকায় আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই, অথচ তাদের জাবেদ নামের এক এমপির বিদেশেই সাড়ে চারশ বাড়ি রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এসব উদাহরণ তুলে ধরার উদ্দেশ্য হলো, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কীভাবে লুটপাটের মাধ্যমে একটি শ্রেণি নিজেদের ভাগ্য গড়ে তুলেছে, তা মানুষকে বোঝানো। তাঁর অভিযোগ, সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন এবং সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা নেতা হয়ে যান।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে তিনি যখন সংসদ সদস্য ছিলেন, তার পর থেকেই কারচুপির নির্বাচন শুরু হয়। সে সময় তজুমদ্দিনে মাদকের বিস্তার ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে গত ১৫ বছরে এলাকায় ঘরে ঘরে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। মাদক নির্মূলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের আটক করে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।
এর আগে তজুমদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক অসহায়, পঙ্গু ও দুস্থ মানুষের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর এবং সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য একটি পার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে শুভেচ্ছা জানান।


















