শনিবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

সাজেকে জেএসএস-ইউপিডিএফের মধ্যে দুই ঘণ্টা গোলাগুলি, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাজেক ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে কলাবুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই পক্ষের সশস্ত্র সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কলাবুনিয়ার দুর্গম এলাকায় দুই আঞ্চলিক দলের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দূর থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

অন্যদিকে, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। তবে কাদের মধ্যে এই গোলাগুলি হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।’

এ বিষয়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ইউপিডিএফের দুই ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে বর্তমানে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সংগঠন দুটির অভিযোগ, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামগুলো থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর দাবিতে তারা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

এ পরিস্থিতিতে গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে সংগঠন দুটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফলে সাজেকের চলমান সংকট এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সর্বশেষ - শিক্ষা