রবিবার , ৮ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

দেবিদ্বারে বিএনপির এমপি অবরুদ্ধ, গাড়ি ভাঙচুর

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
নভেম্বর ৮, ২০২৬ ৪:০৯ অপরাহ্ণ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চাঁদপুরের সংরক্ষিত নারী আসন-৩-এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরাসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারীরা।

 

এসময় বিক্ষোভকারীরা এমপির গাড়ি অবরুদ্ধ করে গাড়ির সামনে ‘দালাল’ ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে গাড়ি বহরের শেষে থাকা গুলশান থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খানের গাড়ি ভাঙচুর চালান মঞ্জু মুন্সীর অনুসারীরা।

 

​পরে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারী কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সহযোগিতায় তাঁদের গাড়ি বিক্ষোভস্থল থেকে চান্দিনা সড়ক দিয়ে নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়। রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ রোডে এই ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

 

​দলীয় একটি সূত্র জানায়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেবিদ্বারে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির দুটি পক্ষ। একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী। অন্য পক্ষের কর্মসূচির আয়োজন করা হয় দেবিদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির ব্যানারে।

 

​বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দেবিদ্বার নিউমার্কেট চত্ত্বরের রহমানিয়া সুপার মার্কেট এলাকায় সমাবেশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা-৪ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাশেদা বেগম হীরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, সাবেক ছাত্রদল নেতা এমএ আবদুল আউয়াল খান এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম। সমাবেশ শেষে তাঁরা বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের দিকে যান।

 

​অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও এএফএম তারেক মুন্সীর নেতৃত্বে বিকাল ৫টার দিকে দেবিদ্বার সরকারী রেয়াজ উদ্দিন পাইলট ম‌ডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিউমার্কেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের বাধা পেরিয়ে সুজাত আলী সরকারি কলেজ রোডের দিকে যেতে থাকে।

 

​এদিকে উপজেলা বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল শেষে সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরাসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি কলেজ রোডের কালাচান মা‌র্কে‌টের সাম‌নে অবরুদ্ধ করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘দালালি আর করিস না রে, পিঠের চামড়া থাকবে না রে’ এবং ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানসহ বিভিন্ন গালাগাল করতে থাকেন। পাশাপাশি গাড়িতে চাপড় মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এএফএম তারেক মুন্সীসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের গাড়ির সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও উত্তেজিত নেতা-কর্মীদের থামানো যায়নি। একপর্যায়ে গাড়ি বহরের শেষে থাকা আবদুল আউয়াল খানের গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা।দলীয় একটি সূত্র জানায়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের সই করা একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হাশেম। উত্তর জেলা বিএনপির এমন সিদ্ধান্তের পর থেকেই মঞ্জু মুন্সীর অনুসারী নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

 

​এই বিষয়ে ঢাকা গুলশান থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ আউয়াল খান বলেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও মিছিল শেষ করে সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা আপাসহ আমরা কয়েকটি গাড়ি নিয়ে কলেজ রোড পার হচ্ছিলাম। এসময় মঞ্জু মুন্সীর অনুসারীরা একটি মিছিল নিয়ে এসে আমাদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশের সহায়তায় হীরা আপার গাড়ি পার হতে পারলেও বহরের শেষে থাকা আমার গাড়িতে ভাঙচুর চালায় তারা। আমি বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অবগত করেছি। তারা আমাকে এই ঘটনায় উস্কানিদাতাসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে বলেছেন।’

 

​সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রাশেদা বেগম হীরা বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন করেছি। ওনারাও আলাদাভাবে একই সমাবেশ পালন করেন। ওখানে আমাকে যেতে দাওয়াত করেছিল, তবে ওটা যেহেতু সংগঠনের অনুমোদিত কমিটির না, তাই আমি সেখানে যেতে পারি না। আমি তাদেরকে একসাথে কর্মসূচি পালন করতে বলেছিলাম। আমি জানতাম এক সাথেই করা হচ্ছে। কিন্তু সমাবেশে এসে জানতে পারি আলাদাভাবে করা হচ্ছে। পরে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে থ্রেট করেছে, বিষয়টি ওসি সাহেবও জানেন। তারা আমার গাড়ি অবরুদ্ধ করে ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দিয়ে আক্রমণ করে। পুলিশ এসে বাধাও দিয়েছে। তারপর ওরা আমার গাড়ির সামনে এসে জসিম, আউয়াল ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভাইকেও প্রচুর গালাগালি করেছে। পরে আউয়ালের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পুলিশ প্রটেকশন নিয়ে আমাদের বের হতে হয়েছে।’

 

​কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী বলেন, ‘আমরা হাইস্কুল মাঠে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও মিছিল করেছি। তাঁরা মিছিল শেষে ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি দেখে আমাদের কিছু নেতা-কর্মী উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে আমি নিজে সংসদ সদস্য হীরা আপার গাড়ির সামনে গিয়ে নেতা-কর্মীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিই এবং তাঁর গাড়িটি নিরাপদে বের করে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। পরে শুনেছি এম এ আউয়াল খানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, তবে গাড়ি ভাঙচুরের সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।’

 

​দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মারামারির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওনারা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির সামনে কিছু বাধা পড়েছিল, আমরা ধাক্কা দিয়ে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করে দিয়েছি। এমএ আউয়াল খানের গাড়ির সামনের গ্লাসে কেউ জোরে থাপ্পড় দেওয়াতে গ্লাসটা ভেঙে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।’

সর্বশেষ - শিক্ষা