বুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফের রিট, আদেশ ১১ নভেম্বর

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১২:২৪ অপরাহ্ণ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১১ নভেম্বর আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।বুধবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. ইউসুফ আলী ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।

 

গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে বক্তব্য দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আসিফ মাহমুদ। অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয় আবেদনে।

 

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসিফ মাহমুদের পক্ষে তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা রিটটি দায়ের করেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে করা এ আবেদনের নম্বর রিট পিটিশন ১৩৮৮৫/২০২৬। এতে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।রিটে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের দেওয়া প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিচারাধীন বিষয়ে এ ধরনের ব্রিফিং বন্ধের নির্দেশনা এবং আগে প্রচারিত বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করা হয়েছে।

 

রিটের পেছনের প্রেক্ষাপট

 

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আবেদনকারীর যুক্তি, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর নির্ধারণের বিষয়। অনুসন্ধান শুরুর সময় এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার দুদকের নেই।আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সময়ে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বলা কথা হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বক্তব্যটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। তবে গণমাধ্যমে এর কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার প্রকাশ করা হয়নি।

 

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে না নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ তোলা হয়।অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছেন আসিফ মাহমুদ

 

রিট আবেদনে আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশে হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রিটে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। আর ওই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ১১ মে, অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর। ফলে এ পদোন্নতিতে তাঁর সংশ্লিষ্টতা থাকার সুযোগ নেই বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ব্রিফিং করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, এর মাধ্যমে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হয়েছে, যা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থি।

সর্বশেষ - শিক্ষা