মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. ভিডিও
📢 এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপনের আকার সর্বোচ্চ: 1080 × 200 px

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ চারজনের মামলার রায় বৃহস্পতিবার

প্রতিবেদক
Sabiha Sultana
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রের খরচে নিয়োজিত আইনজীবী আমির হোসেন মামলা পরিচালনা করছেন।

সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

এর আগে গত ৭ অক্টোবর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। সেদিন রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আগে শেষ হলেও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিছু অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করে। এ কারণে উভয় পক্ষকে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পাশাপাশি অধীনস্তদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, হানিফ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়া, উসকানি দেওয়া এবং অপরাধে সহায়তা করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থেকে সমর্থন জুগিয়েছিলেন।

এ ছাড়া টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এসব কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের দাবি, একই ধরনের অপরাধে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। একই ধরনের অপরাধে হানিফের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এর আগে গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচার শুরু হয়। ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং পরদিন তা আমলে নেওয়া হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ষড়যন্ত্র এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের রায়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

সর্বশেষ - শিক্ষা